ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতকে ভয় পায় না। যুক্তরাষ্ট্র গত ৩ জানুয়ারি এক সামরিক হামলায় তার পূর্বসূরি নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা জানি যে তারা অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা জানি যে তারা একটি প্রাণঘাতী পরমাণু শক্তিধর দেশ।’
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে ও কূটনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করতে আমরা ভয় পাই না।
রদ্রিগেজ ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বামপন্থী প্রেসিডেন্টের একজন সোচ্চার মিত্র ছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন। তবে শর্ত ছিল, তার সরকার ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের ওপর প্রবেশাধিকারের বিষয়ে ওয়াশিংটনের নির্দেশনা মেনে চলবে।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে রদ্রিগেজ সংসদে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সংসদ সদস্যরা করতালির দিয়ে তাকে সম্মান জানায়।
তিনি আইন প্রণেতাদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি মাদুরোর ‘মর্যাদার প্রতি সম্মান’ দেখাতে, তিনি ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেছেন।
গত বুধবার, রদ্রিগেজ ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প রদ্রিগেজকে একজন অসাধারণ ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, তিনি ও রোদ্রিগেজ ‘তেল, খনিজ সম্পদ, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই আলোচনায় আমরা অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করছি।’
এদিকে, রদ্রিগেজ কূটনৈতিকভাবে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথে চলছেন।
তিনি একদিকে ট্রাম্পের দাবিগুলো পূরণের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনী ও আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা মাদুরো-অনুগতদের বিরূপ না করার চেষ্টাও করছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ফোনালাপকে ‘ফলপ্রসূ ও সৌজন্যপূর্ণ’ হিসাবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প এখনও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলকে উপেক্ষা করে চলেছেন, যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
হোয়াইট হাউস ওই বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অনলাইন ডেস্ক