কিউবার জলসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন স্পিডবোটে দেশটির সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। কিউবা সরকারের দাবি, নৌযানটির আরোহীরা প্রথমে গুলি চালালে সীমান্তরক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিউবার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের ভিলা ক্লারা প্রদেশের উপকূলবর্তী কায়ো ফ্যালকন্স দ্বীপের কাছে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিউবা সরকার জানিয়েছে, স্পিডবোটটির লাইসেন্স প্লেট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের। নিয়ম ভঙ্গ করে জলসীমায় প্রবেশ করা ওই নৌযানের আরোহীদের ছোড়া প্রথম দফায় গুলিতে কিউবার এক জাহাজের কমান্ডার আহত হয়েছেন।
ঘটনায় নিহত চারজনের মধ্যে মিশেল অর্তেগা কাসানোভা নামের একজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় আটক ছয়জনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিক। পাশাপাশি, কিউবার ভেতর থেকে দুনিয়েল হার্নান্দেজ সান্তোস নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে এই সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের গ্রহণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি হাভানার।
কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিউবার মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। অভিযুক্তদের কাছ থেকে অস্ত্র, মলোটভ ককটেল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও ক্যামোফ্লাজ পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিউবা সরকার তাদের সীমান্তরক্ষীদের এই পদক্ষেপকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার জানিয়েছেন, তারা নিজস্বভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করবেন। তিনি কিউবা সরকারকে ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
ক্যারিবীয় দেশগুলোর এক সম্মেলনে মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ওই স্পিডবোটটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো গোপন অভিযানের অংশ ছিল না। তিনি খোলা সমুদ্রে এ ধরনের গুলিবিনিময়কে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা, ইরান, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কিউবার সুসম্পর্কের সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
১৯৫০-এর দশকের শেষভাগ থেকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অবরোধ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা চলে আসছে, এই ঘটনা সেই অস্বস্তিকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

অনলাইন ডেস্ক