প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ । ১২:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাবর-নাহিদের পেশাওয়ার

হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাবর-নাহিদের পেশাওয়ার
অনলাইন ডেস্ক

দুর্দান্ত বোলিংয়ে মঞ্চটা সাজিয়ে দিলেন নাহিদ রানা ও অ্যারন হার্ডি। পরে ছোট লক্ষ্যে টপ-অর্ডারের ব্যর্থতায় কিছুটা চাপে পড়ল পেশাওয়ার জালমি। এবার ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিলেন হার্ডি। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন হলো পেশাওয়ার।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারায় পেশাওয়ার। আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ১৫.২ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় বাবর আজমের দল।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পিএসএলের শিরোপা জিতল পেশাওয়ার। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরপর আরও তিনবার ফাইনাল খেললেও ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রায় ৯ বছর পর সর্বোচ্চ সাফল্য পেল তারা।

অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রূপকথার গল্প লেখার পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও শেষ বাধা উৎরাতে পারল না হায়দরাবাদ। প্রথম চার ম্যাচ হেরে বিদায়ের শঙ্কা থেকে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে ফাইনালে ওঠে প্রথমবার পিএসএল খেলতে আসা দলটি। কিন্তু শিরোপার লড়াইয়ে আর পারল না তারা।

ফাইনাল ম্যাচে পেশাওয়ারের জয়ে বড় অবদান নাহিদ ও হার্ডির। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া তরুণ গতিতারকা নাহিদ ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২২ রানে নিয়েছেন ২টি উইকেট।

পিএসএল ফাইনালে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় বোলার নাহিদ। তার আগে ২০২১ সালে ইমরান খান ও ২০২৪ সালে এই কীর্তি গড়ে দেখান খুশদিল শাহ। দুজনই ছিলেন মুলতান সুলতান্সের জার্সিতে।

আর ব্যাটে-বলে নাহিদকেও ছাড়িয়ে গেছেন হার্ডি। চমৎকার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথমে ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পরে চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে ৫৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ফাইনালে ব্যাট হাতে ফিফটি ও বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার ইতিহাস গড়লেন হার্ডি।

তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ হারিস (৩ বলে ৬) ও বাবর আজম (১ বলে ০) ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। শুরুতেই ২ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদ শিবিরে আশা দেখান মোহাম্মদ আলি।

পরে চতুর্থ ওভারে কুশল মেন্ডিস (৮ বলে ৯) ও পঞ্চম ওভারে মাইকেল ব্রেসওয়েলও (৫ বলে ৪) আউট হয়ে গভীর খাঁদে পড়ে যায় পেশাওয়ার। তাদের স্কোর বোর্ডে তখন ৪ উইকেটে মাত্র ৪০ রান।

সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন হার্ডি ও আব্দুল সামাদ। দুজন মিলে ৬০ বলে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। জয় থেকে মাত্র ৫ রান বাকি থাকতে ড্রেসিং রুমে ফেরেন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৮ রান করা সামাদ।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৯ চারে ৩৯ বলে ৫৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন হার্ডি।

ম্যাচের প্রথমভাগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে মাজ সাদাকাতের (৬ বলে ১১) উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। তবে চাপ সামলে পাল্টা আক্রমণ করেন মার্নাস লাবুশেন ও সাইম আইয়ুব। ৪.৩ ওভারে পঞ্চাশ পূর্ণ করে ফেলে হায়দরাবাদ।

পঞ্চম ওভারেই লাবুশেনকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন হার্ডি। ১২ বলে ২০ রান করে ফেরেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক। পরে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নাহিদের বলে ছক্কা-চার মেরে ১৩ রান নিয়ে নেন সাইম।

পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৬৯ রান করে তখন পর্যন্ত উড়ছিল হায়দরাবাদ। তবে সপ্তম ওভার থেকেই শুরু হয় তাদের পতন। ওভারের তৃতীয় বলে উসমান খানকে (৬ বলে ৮) ফেরান সুফিয়ান মুকিম। আর শেষ বলে ইরফান খান (২ বলে ১) হন রান আউট।

পরের ওভারে চমৎকার গতিময় ডেলিভারিতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ আউট করেন নাহিদ। একই ওভারে কুশল পেরেরা রান আউট হয়ে গেলে যেন চোখের পলকে ২ উইকেটে ৭১ থেকে ৬ উইকেটে ৭৩ রানের দলে পরিণত হয় হায়দরাবাদ।

এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সাইম। স্রোতের বিপরীতে দারুণ এক ফিফটি করেন বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটার। তাকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি হাসান খান (৭ বলে ১২)।

১৮তম ওভারে হার্ডির তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে নবম ব্যাটার হিসেবে ড্রেসিং রুমে ফেরেন সাইম। তার ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৫৪ রান।

পেশাওয়ারের পক্ষে বল হাতে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন হার্ডি। আর ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন নাহিদ।

সব মিলিয়ে দেশের বাইরে প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে নেমে ৫ ম্যাচে ১৮ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫.৪৪ ইকোনমি রেটে ৯ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। টুর্নামেন্টে অন্তত ১ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার ইকোনমিই সবার সেরা।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান,    নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান,                                    নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন