প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ । ১২:৫৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ১০টি গোল

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ১০টি গোল
অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা কেবল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য ‘সোলো রান’ থেকে শুরু করে ব্রাজিলের মাঠে হামেস রদ্রিগেসের সেই চোখধাঁধানো ভলি—এই গোলগুলো ফুটবলপ্রেমীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আজও সমানভাবে রোমাঞ্চিত করে। দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের সেরা ১০টি জাদুকরী।

১. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮৬)
বিশ্বকাপের সেরা গোলের তালিকা করলে সবার আগেই আসবে এই গোলটির নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের অর্ধে বল পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা; এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় ‘সোলো রান’। মাত্র ১১ সেকেন্ডের জাদুকরী ছন্দে ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফুটবল ইতিহাসে এই গোলটি ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত, যা আজও ম্যারাডোনার ফুটবলীয় মস্তিস্ক ও শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

২. কার্লোস আলবার্তো বনাম ইতালি (১৯৭০)
ম্যারাডোনার গোলটি যদি হয় একক নৈপুণ্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, তবে ১৯৭০-এর ফাইনালে কার্লোস আলবার্তোর করা এই গোলটি ছিল দলগত ফুটবলের এক অনন্য মহাকাব্য। ব্রাজিলের সেই কিংবদন্তি দলটি পুরো মাঠজুড়ে অসাধারণ পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, যার শেষ প্রান্তে পেলের বাড়ানো এক মাপা পাস খুঁজে নেয় আলবার্তোকে। ব্রাজিলের অধিনায়ক বুলেট গতির এক শটে বল জালে জড়ান, যা ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটির ইতি টানে। আজও ফুটবল বিশ্বের অনেকে এটিকে ইতিহাসের সেরা ‘দলগত গোল’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

৩. হামেস রদ্রিগেস বনাম উরুগুয়ে (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে এই চোখধাঁধানো ভলি দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেস। পেনাল্টি বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাঁ-পায়ে এক দুর্দান্ত শট নেন এই কলম্বিয়ান তারকা; বলটি ক্রসবারে লেগে সজোরে জালে আছড়ে পড়ে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকা এই গোলটি পরবর্তীতে ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জয় করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক গোল হিসেবে স্বীকৃত।

৪. পেলে বনাম সুইডেন (১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলে এমন এক কীর্তি গড়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে। ডি-বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বলটি আলতো করে তুলে দিয়ে , অসামান্য ক্ষিপ্রতায় এবং শান্ত মাথায় ভলিতে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ‘কালো মানিক’। সেই মুহূর্তেই ফুটবলবিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, তারা যুগের সেরা এক মহাতারকার জন্ম হতে দেখল।

৫. রবিন ফন পার্সি বনাম স্পেন (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে রবিন ফন পার্সির সেই ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ গোলটি। ডেলি ব্লিন্ডের লম্বা পাস যখন স্পেনের বক্সের দিকে আসছিল, ফন পার্সি নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে এক অবিশ্বাস্য ডাইভিং হেডে বলটি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াসের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সেই ম্যাচে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেদারল্যান্ডস, তবে ফন পার্সির সেই উড়ন্ত ফিনিশিংটিই পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল।

৬. সাঈদ আল-ওয়াইরান বনাম বেলজিয়াম (১৯৯৪)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আন্ডারডগ বা কম শক্তির দলের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা বললে সাঈদ আল-ওয়াইরানের এই গোলটি সবার উপরে থাকবে। নিজেদের সীমানার অনেক ভেতর থেকে বল পেয়ে তিনি বেলজিয়ান ডিফেন্সকে তছনছ করে এক জাদুকরী ‘সোলো রান’ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। এই অসাধারণ গোলটি সৌদি আরবকে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল এবং এর শৈল্পিকতা ম্যারাডোনার ৮৬-র সেই বিখ্যাত গোলের সঙ্গে তুলনা কুড়িয়েছিল।

৭. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম বেলজিয়াম (১৯৮৬)
সেরা গোলের তালিকায় ম্যারাডোনার নাম দুইবার থাকাই স্বাভাবিক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালের এই গোলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেই মহাকাব্যিক গোলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও, এটি ছিল ভারসাম্যের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ের ছন্দে নাচিয়ে ম্যারাডোনা নিজের ট্রেডমার্ক ভঙ্গিতে বলটি গোলকিপারের পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন।

৮. রবার্তো ব্যাজিও বনাম চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৯০)
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো বাজ্জিওর ফুটবলীয় প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণ ড্রিবলিং আর গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে তিনি এগিয়ে যান। ডি-বক্সের ভেতর আঁকাবাঁকা পথে ঢুকে পড়ার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তিনি আক্রমণটির ইতি টানেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক ‘সোলো গোল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

৯. ডেনিস বার্গক্যাম্প বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯৮)
নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন হয়ে আছে এই গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একদম শেষ মুহূর্তে ফ্রাঙ্ক ডি বোয়ারের বাড়ানো একটি লম্বা ডায়াগোনাল পাস খুঁজে নেয় ডেনিস বার্গক্যাম্পকে। ডাচ এই জাদুকর প্রথম স্পর্শেই বলটি অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, দ্বিতীয় টাচে ডিফেন্ডার রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে দেন এবং তৃতীয় টাচে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ভলিতে গোল করেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই শৈল্পিক গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে।

১০. বেঞ্জামিন পাভার্ড বনাম আর্জেন্টিনা (২০১৮)
২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বেঞ্জামিন পাভার্ডের সেই সমতাসূচক গোলটি মুহূর্তেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দৃশ্যে পরিণত হয়। বক্সের বাইরে থেকে আসা একটি বাউন্সিং বলকে ফরাসি এই ডিফেন্ডার নিখুঁত এক হাফ-ভলিতে বাঁক খাইয়ে পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সাত গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্স ৪-৩ ব্যবধানে জিতে এবং শেষ পর্যন্ত সেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান,    নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান,                                    নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন