প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

থার্ডআই অনলাইন ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা বা নতুন পলিসি তৈরি করছে সরকার।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনফারেন্স-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই নতুন উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মাহ্দী আমিন জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে তাদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী বিকল্প ক্যারিয়ারের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। আমরা তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। জাপান, কোরিয়ান, চীন কিংবা ইউরোপীয় কোনো দেশের ভাষা তিন থেকে ছয় মাসের মেয়াদে শিখে নিলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সহজ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি এবং উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও যেখানে শতভাগ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকে না, সেখানে ভাষা শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী এসএসসির পর এইচএসসি করছে, তারপর অনার্স করছে; তারপরও তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তোমাদের যদি আমরা ভাষা শেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারি এবং তিন বা ছয় মাস মেয়াদি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তোমাদের অনেকেই সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, জনগণের নির্বাচিত ও শিক্ষাবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রতিটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যারা জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায় তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি কিংবা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে কেবল মেধার ঘাটতি থাকে না, এর পেছনে পারিবারিক ও আর্থিক অসঙ্গতি, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা শ্রেণিকক্ষের অভাব কিংবা পরীক্ষার পূর্বে অসুস্থতা ও পারিবারিক সংকটসহ বহুমুখী কারণ থাকতে পারে। সরকার বিষয়টিকে কেবল ফলাফল দিয়ে বিবেচনা করে না। শিক্ষক সংকট থাকলে শিক্ষক দেওয়া, ক্লাসরুমের সংকট থাকলে অবকাঠামো তৈরি করা কিংবা আর্থিক অসঙ্গতি থাকলে সহায়তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাজ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি, জীবনে চলার পথে এই ধরনের সাময়িক হোঁচট খাওয়া অস্বাভাবিক নয়।এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে যারা ভালো ফলাফল করে, তাদের হয়তো জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে সফলতার পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা নয়, তেমনি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না পেয়েও অনেকে জীবনে সফল হয়ে ওঠেন। এর অর্থ হলো এসএসসিতে সাফল্য মানেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, আর এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের ব্যর্থতা নয়।

অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ব্যক্তিজীবনেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই অভিভাবক। শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। সেই দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণের শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া বা না পাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের (বোর্ড) চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন