প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: এক পরিবারের’ ৬জনসহ নিহত ১০

থার্ডআই অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ৬ জন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর ) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে কাঠের তৈরি ৩ তলা রিসোর্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে বলে ।

নিহত পরিবারের সদস্য আশিকুল ইসলাম জানান, আমরা পরিবারটির নয়জন বেড়াতে এসেছিলেন। তিনজন সুস্থ আছেন।

আগুনে আহত আশিকুল ইসলাম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, সকালে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। তার স্ত্রী আগুন দেখতে পেয়ে তাকে ডেকে তোলেন। এরপর পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান তিনি।

কক্সবাজার, উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্ট ছবি : সংগৃহীত

আশিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা একই পরিবারের ৯ জন ছিলাম। তিনজন বের হতে পারলেও ছয়জন ওই রিসোর্ট থেকে বের হতে পারেনি। এর মধ্যে আমার স্ত্রী, তার আপন বোন, খালাতো বোন, খালাত বোনের ছেলে, খালাত ভাইসহ ছয়জন ছিল।

টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন : ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল।

এ অগ্নি দুর্ঘটনায় আহত নয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন—সায়ানুল মান্নান (৩৫), তার স্ত্রী ফাহমিদা (৩১); মাসুদ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা (৩০), ডা. শিহাব উদ্দিন সাদি (৩১), ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), আশিক (২৮), আইরিন ও ইমা।

সায়ানুল মান্নানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলে এবং বৌমা সুস্থ আছে। কক্সবাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা দুপুরের পর বিমানে করে ঢাকার মিরপুরের পীরেরবাগ বাসায় এসেছে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। দগ্ধ আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক।

তিনি আরও বলেন, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, রিসোর্টটির তিনটি তলাই কাঠের তৈরি ছিল। আগুনে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কাছে নিখোঁজ ছয়জনের নাম আছে। তারা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি থাকবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন