প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৪৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ, ক্ষমা চাইল মেটা

থার্ডআই অনলাইন/ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারবিরোধী ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ‘নো কিংস’ (ঘড় করহমং)-এর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ (No Kings) হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে মেটা।

১৭ অক্টোবর শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম ভোট দেওয়ার (Early Voting) আহ্বান জানিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৩,০০০ স্থানে একযোগে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেয় ‘নো কিংস কোয়ালিশন’।

রোববার নো কিংস কোয়ালিশন তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানায়, তারা আবার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। তবে এ ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনো মেটার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের সময় ভোটদান নিয়ে প্রচারের যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করে সংগঠনটি।

এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং গণতন্ত্র রক্ষা করা। ঠিক এই আন্দোলনের চূড়ান্তে পৌঁছানোর সময় (দুপুর ১টা ইস্টার্ন টাইম) আকস্মিকভাবে তাদের মূল প্রচারণামূলক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেওয়া হয় এবং অ্যাডমিনদের অ্যাক্সেস কেড়ে নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারবিরোধী গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ‘নো কিংস’-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেন্সরশিপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও। রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানা ধনকুবেরদের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলেই নো কিংসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে।

অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হলেও শনিবারের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো অব্যাহত ছিল। ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘আগেভাগে ভোট দিন’ এবং ‘আমার ভোটে হস্তক্ষেপ নয়’ এমন স্লোগান লেখা ছিল।

আটলান্টায় সিটি কাউন্সিলর মাইকেল জুলিয়ান বন্ড বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, সংবিধান তাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা হলো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা। তিনি সেই ক্ষমতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ছাতা হাতে বিক্ষোভ করেন অনেকে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনকুবেরদের ওপর কর আরোপ।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছাঁটাই, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং বিদেশে যুদ্ধের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্বেগ থেকে গত বছর নো কিংস আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তৃত হয়েছে। এর কর্মসূচিতে সাধারণত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা গুরুত্ব পায়।

এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের আগাম ভোটদানে উৎসাহিত করাকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভোটাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দুর্বল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের নির্বাচনের ফল নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলার আশঙ্কাও এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন