প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন : প্রধানমন্ত্রী

থার্ডআই অনলাইন ডেস্ক

নিজের সন্তানের জন্য হলেও একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা শহর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কোনো অভিভাবকই চান না তাঁর সন্তান নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। যেহেতু শিশুরা শুধু নিজ এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে পড়ালেখা বা খেলার ছলে পুরো ঢাকা শহরেই যাতায়াত করে, তাই সবার স্বার্থে পুরো রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব না হলেও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি ঘটানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে সেখানকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিলে নগরীর চিত্র বদলানো সম্ভব।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে শহরটির পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে অনেকেরই মনে হয়, ঢাকাও যদি এমন হতো! কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা হলে ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন