প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৩৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত, আহত ৩২

থার্ডআই অনলাইন ডেস্ক/নাটোর/বরাই

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৪ জন নিহত এবং ৩২ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক গণমাধ্যমের খবরে প্রথমে নিহত ১৪ জন বলে জানানো হলেও, পরবর্তীতে সমন্বয়হীনতা দূর করে পুলিশ ও হাইওয়ে বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ ও বাস মালিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাসচালকের নাম সোহেল এবং ট্রাকচালকের নাম মো. কালাম। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে চাপাই-বরগুনা অভিমুখী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নয়জন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের ছবি : সংগৃহীত

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আবুল কালাম আজাদ (৩২), বাসের সুপারভাইজার (ঘটনার সময় তিনি বাসটি চালাচ্ছিলেন) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সোহেল রানা (৩৬)।

এছাড়াও নিহতের তালিকায় আছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহীন হোসেন (২৫), রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোনোপাড়া গ্রামের আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নিহত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এখানে আরও চিকিৎসা নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান আলী (২৮), দিনাজপুরের ইয়াকুব আলী (৩৪), চাঁদপুরের আব্দুস সালাম (২২)। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিদের নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৭ু৮ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন