রাজধানীতে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। সকালে ঢাকায় দেখা গেছে হালকা কুয়াশা। আজ (মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হালকা বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সারা দেশের কোথাও কোথাও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। আজ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে সারা দেশে শীতের প্রকোপ বেড়েই চলছে। ঘন কুয়াশায় সাধারণ জীবনে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় তাসের আদ্রতা ছিলো ৯৩ শতাংশ। এছাড়াও, উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।
সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নেমেছে ১২.৫ ডিগ্রিতে
ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। আজ (মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতে নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
কয়েক দিন ধরেই এ জেলায় সকাল-সন্ধ্যায় তাপমাত্রার তারতম্য বেশি অনুভূত হচ্ছে। মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিন্ম আয়ের মানুষেরও ভোগান্তির শেষ নেই।
জেলা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, গত দুই দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্যের দেখা না মেলায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে গেছে। এতে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। এছাড়া হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত সপ্তাহের তুলনায় শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়েছে। বিশেষ করে, রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
পঞ্চগড়ে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় সড়ক ও মাঠঘাটে দৃষ্টিসীমা কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এর আগের দিন সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। সেদিনও সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা বিরাজ করে। দুপুরের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডার অনুভূতি কমেনি। সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা কুয়াশা ও কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। সকালে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্নস্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
হাড়িভাসা এলাকার অটোরিকশাচালক রফিকুল বলেন, কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তারপরও সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না। ঠান্ডার কারণে যাত্রীও কমে গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দিনগুলোতে তা আবার কমেছে। তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেঁতুলিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের ওপর মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ঘন কুয়াশা, আর হিমশীতল বাতাসে গত পাঁচ দিন ধরে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন গুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছিন্নমূল মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রিকশাচালক আলম মিয়া (৫০) বলেন, কযেক দিন থেকে শীত আর খুব ঠান্ডা পড়েছে ঘর থাকি বের হওয়া যায় না। হামাক তো বের হওয়া লাগবে না বের হইলে খামোকি বউ ছাওয়াক কি খাওয়ামো তাই বের হইলাম। এখন পর্যন্ত একটাও ভাড়া পাইনাই। রাস্তায় মানুষ নাই ভাড়া হইবে কেমনে। তাই বসে আছি। বাজার খরচ না নিয়ে যেতে পারলে ছাওয়া পাওয়া না খায়া থাকপে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

অনলাইন ডেস্ক