যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) দেশটির বিভিন্ন শহরে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মার্কিন কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা চালিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে করাচিতে ১০, স্কার্দুতে অন্তত ৯ এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
করাচিতে শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন কনসুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি পুলিশ সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর আগে, হাসপাতালের একটি তালিকায় ৯ জনের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
রাজধানী ইসলামাবাদে নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী খামেনির ছবি হাতে রাস্তায় নামেন। মার্কিন দূতাবাসের কাছে জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ইরানের প্রতি সংহতি জানান। ভিড় সরাতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির শব্দ শোনার কথাও জানিয়েছেন। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান প্রধানত সুন্নি মুসলিম, কিন্তু শিয়ারা জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি। দেশটির শিয়া রাজনৈতিক দল মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের এক নেতা আল জাজিরাকে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন, তবে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি উসকে দেয়ার চেষ্টা করেন।
ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতাল পলি ক্লিনিকের চিকিৎসকরা জানান, সেখানে অন্তত দুইটি মরদেহ আনা হয়েছে এবং ৩৫ জনের বেশি আহত ব্যক্তির চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে, স্কারদু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন পাকিস্তানে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সরকারও সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অনেক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দল খামেনিকে ‘শহিদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘকালীন প্রথা। খামেনির শাহাদাতে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের শোকাতুর মানুষের পাশে আছে।’

অনলাইন ডেস্ক