পার্বত্য জেলা বান্দরবানে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি পালন করতে জেলাজুড়ে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি।
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, গৌতম বুদ্ধ দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর সিদ্ধি বা বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন, যা সমগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।আজ (৩০ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকালে উৎসবের সূচনা হয় বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমবেত ধর্মপ্রাণ মানুষ বোধিবৃক্ষের নিচে একত্রিত হন। অনুষ্ঠানে পূজারীরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন এবং পুণ্য লাভের আশায় চন্দনের জল ও পুষ্প অর্ঘ্য দিয়ে বোধিবৃক্ষ পূজা সম্পন্ন করেন।
দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৭তম বোমাং রাজা উ চ প্রু, রাজকুমার চহ্লা প্রু জিমি, রাজকুমার মংওয়ে প্রু ও রাজকুমার চসিংপ্রু বনিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক উপাসক-উপাসিকা। ধর্মীয় এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সমবেত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে হিতোপদেশ ও ধর্মদেশনা প্রদান করেন উজানীপাড়া রাজগুরু মহা বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত ড. সুবন্নলংকারা মহাথের, রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত উ: কেতুঃ মহাথের এবং আবাসিক ভিক্ষু ভদন্ত নন্দশ্রী থের। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের এই তিথিতে গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই উৎসব পালন করে আসছেন।

অনলাইন ডেস্ক