কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে গরু ছাগলের হাট বসবে সাড়ে ৩ হাজার ৬০০ এর বেশি এবং ঢাকার দুই সিটিতে বসবে ২৭টি। রোববার (৩ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি; ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতি—উট, দুম্বা ইত্যাদি ৫ হাজার ৬৫৫টি।
আমিন উর রশিদ বলেন, এবার কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই, ফলে কোরবানিতে কোনো সংকট হবে না। চাহিদার তুলনায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোরবানির পশু যাতে দেশে ঢুকতে না পারে, সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হবে। সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং কোনো অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে এবং বড় হাটগুলোতে একাধিক টিম রাখা হবে, যাতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
কুরবানির পশু পরিবহনের সময় হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পহেলা মে থেকে চাঁদাবাজি ও রাহাজানির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রেও কোনো খাজনা বা হাসিল নেয়া হবে না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সতর্কতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কুরবানির হাট থেকে উৎপন্ন বর্জ্য একই দিনেই অপসারণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তায় আগামী তিন মাস সরকারিভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

অনলাইন ডেস্ক