প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ । ১২:১১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

১৮ জেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে হামের টিকা
অনলাইন ডেস্ক

জুলাইয়ের আগে হাম কমার কোনো আশা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার পর অন্তত এক মাস লাগতে পারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে। আবার সরকার এক ডোজ টিকা দেয়ায় পুরো টিকা কার্যক্রমের সফলতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে গতকাল (সোমবার, ৪ মে) পর্যন্ত গেলো এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের, আক্রান্তের সংখ্যাও ১০ হাজারের বেশি।

হামের ভ্যাকসিন নেয়ার এ ভিড় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক নং ওয়ার্ডের একটি টিকা কেন্দ্রের।

চার সিটিতে টিকাদান কর্মসূটি শুরুর ২০ দিন পরেও টিকা নিতে আসছেন অভিভাবকরা। সারাদেশে হাম সংক্রমণের মধ্যে টিকাতেই আশা দেখছেন তারা।

অভিভাবকরা জানান, সরকারিভাবে দেয়ায় তারা এটাকে নিরাপদ মনে করছেন। এছাড়া সচেতনতা থেকেই বাচ্চাদের নিয়ে টিকা দেয়াতে এসেছেন বলেও জানান তারা।

৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৩ ধাপের টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশু। এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে ৮১ শতাংশ শিশু টিকা পেয়েছে।

এদিকে টিকা দেয়ার শুরুর এক মাস হতে চললেও কমছে না হামের প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে সোমবার থেকে আগের সাত দিনে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিশু। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। রোববার পর্যন্ত হামে মৃত্যু ২৯৪ জন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জুলাইয়ের আগে হাম কমার কোন আশা দেখছেন না। তারা বলছে, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পর অন্তত এক মাস লাগতে পারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে।

বিএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফউল্লাহ মুনশি বলেন, ‘যারা শেষে ভ্যাকসিন দেবে, তার কিন্তু প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন সময় লাগবে ইমিউনিটি পেতে। যখন সেটা তৈরি হবে তখন কিন্তু আমরা দেখতে পারবো যে, আস্তে আস্তে কেস কমে আসবে। অন্তত জুন মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’

সরকারের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এক ডোজ টিকা। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে দুই ডোজ টিকার দরকার হয়। এ অবস্থায় পুরো টিকা কার্যক্রমের সফলতা নিয়েও শঙ্কা আছে বিশেষজ্ঞদের।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও ও হাম-রুবেলা ল্যাবলেটরির ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘১০০টা বাচ্চার মধ্যে যদি ৯৫টা বাচ্চাকে আমরা দুই ডোজ এনশিওর করতে পারি মেজাস ভ্যাকসিনের, তখন সেটা ওই বাচ্চাদের ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেবে। এটা যদি না করতে পারি, ওই যে ৫ শতাংশ যেটা দিতে পারলাম না, তাদের মধ্যে একজনও যদি আক্রান্ত হয়, সেখান থেকেই ছড়াবে।’

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিহীনতা, মায়েদের থেকে হামের ইমিউনিটি না পাওয়াসহ নানা কারণে বাড়ছে এ শঙ্কা।

অধ্যাপক ডা. সাইফউল্লাহ মুনশি বলেন, ‘মেজাসটা চারদিকে ছড়াচ্ছে না, সবাই তো ইমিউন্ড আমরা, প্রায় ৯৫ শতাংশ ইমিউন্ড। সেক্ষেত্রে ওই মায়েরা কিন্তু কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে চলাফেরা করছে। তাদের গভাবস্থায়ও কিন্তু ইমিউনিটি কম।’

ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘একটা বাচ্চা যদি আক্রান্ত হয়, সে ওই এলাকার তার আশপাশের ১৮ থেকে ২০ জন বাচ্চাকে সংক্রমিত করতে পারে। এভাবে ভাইরাসটা ছড়াচ্ছে। প্রত্যেকটা মা যেন গর্ভবতী হওয়ার আগে জেনে নেয় যে, সে মেজাস-রুবেলা টিকা পেয়েছে কি না। যদি না পেয়ে থাকে ছোটবেলায়, সে যেন দুটা ভ্যাকসিন নিয়ে নেয়।’

এদিকে থেমে থেমে বৃষ্টি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। হাম সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান,    নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান,                                    নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন