কোনো সমাধান ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় চীন ব্যাপকভাবে লাভবান হতে যাচ্ছে এবং বেইজিং এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী খেলায় মনোনিবেশ করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক জন নিক্সন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
নিক্সন বলেন, ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ করার সক্ষমতা এবং তাদের আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে চীন অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। তবে তিনি মনে করেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীন এখন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে।
নিক্সন বলেন, চীনের ভবিষ্যতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা (চীন) নিজেদের একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে।
তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ ডেকে আনার বিষয়ে চীনের কোনো আগ্রহ নেই। এর পরিবর্তে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করতে পছন্দ করে, আর এ কারণেই এই অঞ্চলে চীনের এতটা আকর্ষণ।
সাবেক এই মার্কিন বিশ্লেষক ব্যাখ্যা করে বলেন, চীনকে অত্যন্ত বাণিজ্যিক বা লেনদেনমুখী হিসেবে দেখা হয়, যা তাদের একটি নেতিবাচক দিক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের জবরদস্তিমূলক বা আনাড়িপনা (হাম-হ্যান্ডেড) অব্যাহত রাখে, তবে একসময় চীনা বার্তাগুলো এখানকার দেশগুলোর কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
নিক্সন আরও বলেন, চীন এই অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্ব ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিকারকদের জন্য চীন একটি বড় গ্রাহক হিসেবেই থেকে যাবে। তাদের এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক