প্রকাশের সময়: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ । ৯:৫২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশ ছাড়ালো

মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশ ছাড়ালো
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যে ব্যয়ের চাপ বাড়লো। বুধবার (৬ মে) এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

এতে বলা হয়েছে, খাদ্যখাত-বিশেষ করে চাল, ডাল, মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, সবজি, মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। এপ্রিল মাসে খাদ্যখাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। যেখানে গত মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, বিদায়ী এপ্রিলে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে মার্চে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। পাশাপাশি এপ্রিলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত মার্চে যা ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাশাপাশি গত বছরের একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

খাদ্যবহির্ভূত খাতে দাম বাড়ায় সন্তানের পড়ালেখা, বাড়িভাড়া, পরিবহন, পোশাক ও তামাকের খরচ মেটাতে চাপ বাড়বে। কারণ এসব খাতে হাতখরচ বাড়ছে দেশবাসীর।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দাম বৃদ্ধির চাপ আরও বাড়িয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। এতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বাজারে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

বিবিএসের হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে চাপ বেশি। পরিবহন, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ খাতে মূল্যস্ফীতি দ্রুত বেড়েছে। এদিকে, জাতীয় গড় মজুরি হার এপ্রিলে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। ফলে প্রকৃত আয়ের চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ায় সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে। বাজারে শাকসবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ-মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবে চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয় বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা জীবনযাত্রার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান,    নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান,                                    নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন