প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ । ১১:২৯ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি
অনলাইন ডেস্ক

২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হারেনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও সেই ধারার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এর মাধ্যমে বিরতিতে এগিয়ে থাকা ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে ৩৮ ম্যাচে উন্নীত করল লুইস এনরিকের দল।

লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে মিকেল আরতেতার দল। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামে পিএসজির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গানারররা।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে এদিন পিএসজি ও বায়ার্নের দুই গোলকিপার সেভ করেছেন মোট ৯টি নিশ্চিত থাকা গোল। দুই গোলকিপার একটি করে গোল কনসিভ করেছে ঠিকই, তবে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পসরা বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা। ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে বাভারিয়ানরা। ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি। ম্যানুয়েল নয়্যার ও সাফোনভ বীরত্ব দেখালেও ফার্স্ট লেগের ফলে ফাইনালে পৌঁছেছে পিএসজি।

বাংলাদশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিট পিএসজিকে লিড উপহার দেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের আক্রমণ পরাস্ত করে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।

২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।

হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিয়োস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।

৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।

বিরতির পর খেলা শুরু না হতেই হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে পাচো মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন পিএসজি সেন্টার-ব্যাক। কিছুক্ষণ সময়ক্ষেপন করে তাঁকে মাঠেই চিকিৎসা দিতে হয়।

৬২তম মিনেট সাফোনভ পিএসজিকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে ঘুরে বলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন পাভলোভিচ। এরপর কিমিখের কাছ থেকে বলটি ফেরত নিয়ে তিনি আড়াআড়ি পাস দেন। ২২ গজ দূর থেকে প্রথম সুযোগেই শট নেন স্তানিসিচ। কিন্তু বায়ার্ন রাইট-ব্যাকের নেওয়া সেই নিচু ও সাইড-ফুটেড শটটি সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সাফোনভের হাতে।

ম্যাচের সময় যত পুরোনো হতে থাকে ততই গোলনেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে কোম্পানির শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে। বিশেষ করে ৬৭-৬৯ মিনিটের মধ্যে গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

বিশেষ করে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই মুসিলার সাথে ওয়ান-টু পাস খেলে পিএসজির ডান দিকের ডিফেন্সের পেছনে ঢুকে পড়েন ডেভিস। এরপর কানাডিয়ান এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের দিকে বল কাটব্যাক করেন লুইস দিয়াসের উদ্দেশ্যে। দিয়াসের প্রথম টাচ এবং শটটি একদম লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার অসাধারণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন!

৯১তম মিনেট আরও একবার কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। এরপর কাভারাস্কেইয়া মাঝমাঠে বলের দখল নেন এবং উপামেকানোর পাসটি আটকে মেন্দেসকে বাড়ান। কিন্তু মেন্দেসের দূরপাল্লার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ পায়ের জাদু দেখান হ্যারি কেইন। আসরের সর্বোচ্চ এই স্কোরার যেন সব ধরণের নাটকীয়তা জমিয়ে দেন। তবে ফার্স্ট লেগের ফলে শেষটা সুন্দর হয়নি জার্মানি জায়ান্টদের।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান,    নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান,                                    নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন