প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:২৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চিকিৎসক সংকটে পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

থার্ডআই অনলাইন ডেস্ক

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ভুগছে। যার ফলে উপজেলাটির প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে. হাসপাতালটিতে ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৫ জন কর্মরত আছেন।

পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। এক সময় সেখানে নিয়মিত সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার হতো। তবে সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম।এর আগে গত দুই বছরে এই হাসপাতালে শতাধিক সিজারিয়ানসহ ২৫৫টি সার্জিক্যাল অপারেশন হয়েছিল।

শুধু অস্ত্রোপচারই নয়, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে চাপের মুখে রয়েছে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৪০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ সারি। একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে অপেক্ষা করছেন অনেক সংখ্যক রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে সেবা নেন আরও ১০০ থেকে ১২০ জন। এছাড়া শয্যা না পেয়ে অতিরিক্ত রোগীদের অনেক সময় বারান্দার মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হয়। আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবও আছে। পাশাপাশি জরুরি এক্স-রেসহ অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালেই করা যাচ্ছে।

পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাবের একজন টেকনিশিয়ানকে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয় না। ২০২১ সালের শেষ দিকে এখানে সিজারিয়ানসহ অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের শুরুতে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে সার্জিক্যাল চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। ফলে অস্ত্রোপচারের রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবীর এ বিষয়ে জানান, বর্তমানে অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় আমাদের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে মাইনর অপারেশন, ড্রেসিং, কাটা-ছেঁড়া ও সেলাইয়ের কাজ চলছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন