প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৪৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ !

থার্ডআই অনলাইন/ স্পোর্টস ডেস্ক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের হারে এবং জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের পরাজয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে আশা ছিল, শেষটা হলো হতাশায়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও ড্র, এরপর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের কাছে হার। আমিরাত সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতাটা তাই প্রায় শূন্য। টেস্টে পাঁচ দিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছিল, ওয়ানডেতে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও কেন এমন অসহায় বাংলাদেশ? উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি সমস্যা।

নির্ধারিত রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ তামিমের ব্যাটে দারুণ শুরুই করেছিলো বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতেই আসে ৪৭ রান। এরপর রাতের আলো বাড়ার সাথে সাথে পালটে যায় দৃশ্যপট।

জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে রীতিমতো আসা যাওয়ার মিছিলে নামে টাইগার ব্যাটাররা। ৯ রানে সৌম্য থেকে শুরু তামিম, শান্ত, হৃদয়, মোসাদ্দেক, সাইফরা সাজঘরে ফিরেছেন নিয়মিত বিরতিতে।

এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শুরুতেই প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তার করা প্রথম ওভারের শেষ বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার ব্রায়ান ব্রেনেট।

পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে তাসকিন তুলে নেন বেন কারানকে। ব্যক্তিগত ৬ ও দলীয় ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন এ ব্যাটার।
লিটনের অনুপস্থিতি শুধু নেতৃত্বের জায়গায় শূন্যতা তৈরি করেনি, ব্যাটিংয়েও কেড়ে নিয়েছে দলের অভিজ্ঞ একজনকে। তবে একজনের অনুপস্থিতিকে সব ব্যর্থতার ব্যাখ্যা হিসেবে দাঁড় করানো যাবে না। বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নতুন সমন্বয়ে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখার দায়িত্বও টিম ম্যানেজমেন্টের।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের আরেকটি দুর্বলতা হলো টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের মধ্যে ভূমিকার স্পষ্টতা। দলে এমন একাধিক ব্যাটসম্যান আছেন, যাঁরা ওপেনিংয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু ওয়ানডেতে শুধু ওপেনিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেই হয় না; মাঝের ওভারগুলোতে চাপ সামলে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যও দরকার।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে পারভেজ হোসেন ইমন ৭০ রান করেছেন, সাইফ হাসান করেছেন ৪১। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটের পতনের পর ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা উদ্ধার করেছিলেন। কিন্তু সেই জুটি ভাঙার পর আবার দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। বাংলাদেশ ১৬০ রানে অলআউট হয় ৪১.২ ওভারে। আট নম্বরে শরীফুল ইসলামের ব্যাট করতে নামাও বুঝিয়েছে, ব্যাটিংয়ের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

একই সমস্যা দেখা গেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান এলেও পরে বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনের ৩২ রানের জুটিই ছিল ইনিংসের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানে অলআউট হয়ে ৯৯ রানে হারে বাংলাদেশ।

বাকিদের মধ্যে কেউই পেরোতে পারেননি ৩০ রানের কোটা। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বিদায় নেন ৪ রান করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রানে থামে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের পক্ষে ৪৪ রানের খরচায় ৩টি উইকেট তুলে নেন তাসকিন। এছড়া ২টি করে উইকেট পান শরীফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান।

সোমবার একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের মোকাবিলা করবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান                                     নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩ । ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন