প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১২:১৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা
অনলাইন ডেস্ক

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে জেঁকে বসেছে হাড় হিম করা শীত। সেই সঙ্গে দেশের ২৪ জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। এই অবস্থায় নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

এদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ ৪টি জেলার ওপর দিয়ে আরও কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গিয়ে এসব তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় টানা পাঁচ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

এদিকে, শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্করা। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। এই মুর্হূতে শীত বস্ত্রের পাশাপাশি মানুষে খাদ্য সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে বোরো আবাদ ব্যহত হতে বসেছে। ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতে গবাদি পশুর নানা রোগ বালাই বাড়ছে। ঘটছে প্রাণহানি।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আবহাওয়া সব সময় ভিন্ন থাকে। বিশেষ করে উত্তরের হিমালয় এবং তারও উত্তরের সাইবেরিয়ান অঞ্চলের কারণে এখানে শীতকালের মৌসূম অনেকটা দীর্ঘ হয়। এরই প্রভাবে পুরো ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়েই এ অঞ্চলে থাকে শীতের তীব্রতা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর হেরফের হয় শীতের। তারা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসূমে শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেশি। মধ্য ডিসেম্বর থেকে উত্তরের হিম বাতাস প্রবাহিত শুরু হওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কমছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক দিনই সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, শুক্র ও শনিবার (৯-১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শনিবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্র ও শনিবারও দেশের কিছু কিছু জায়গায় শৈত্যপ্রবাহের এমন দাপট থাকতে পারে।

এছাড়া আগামী রোববার থেকে মঙ্গলবার (১১-১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে এই ৩ দিনে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

এর মধ্যে রোববার রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পাশাপাশি সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা। এছাড়া মঙ্গলবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : আয়শা রহমান, নির্বাহী সম্পাদক : অনজন রহমান, নারিন্দা, ওয়ারি, ঢাকা-১২০৩, ফোন : ০১৭১১৬৬২১৮৪, ০১৫১৫৬১২৫৫৯, কপিরাইট © থার্ড আই ভিশন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন