শিরোনাম:

ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ : ট্রাম্প, তেহরানের দাবি ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই’

ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ : ট্রাম্প, তেহরানের দাবি ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

তবে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি ‘বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে’। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বারবার ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছেন, এ সব দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলেছে, হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং ফাঁসিও কার্যকর করা হবে না। আজ অনেক ফাঁসির কথা ছিল, কিন্তু তা হবে না। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখব।’

তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ সব দাবি যাচাই করেনি।

ওভাল অফিসে এএফপি সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো বাতিল হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখব এবং পর্যবেক্ষণ করব।’

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আজ বা আগামীকাল কোনো ফাঁসি নেই।’

একই সঙ্গে তিনি সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার জন্য ইসরাইলকে কোন প্রমাণ ছাড়াই দায়ী করেন।

আরাঘচির দাবি, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হলেও ৭ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। কারণ, বাইরের কিছু ‘উপাদান’ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছিল।

ইরানের বিচারমন্ত্রী আমিন হোসেইন রহিমিও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, ৭ জানুয়ারির পর যা হয়েছে, তা আর বিক্ষোভ ছিল না এবং সে সময় রাস্তায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা ‘নিশ্চিতভাবেই অপরাধী’।

এদিকে এক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করা হবে না।

বুধবার গভীর রাতে জাতিসংঘ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দেওয়া হবে।

আরাঘচি দাবি করেন, পরিস্থিতি ইরান সরকারের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং তিন দিনের ‘সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের’ পর পরিস্থিতি এখন শান্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইরান কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছে, যে কোনো আক্রমণের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেন, গত বছর কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ছিল “ইরানের ইচ্ছা ও সক্ষমতার প্রমাণ”।

এই উত্তেজনার মধ্যে ব্রিটেন জানিয়েছে, তেহরানে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছে।

এদিকে জার্মানির শীর্ষ বিমান সংস্থা লুফথানসা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষাপটে তারা ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এড়িয়ে চলবে।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাঁচ দিনের ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে।

জি-৭ দেশগুলো বুধবার বিক্ষোভে হতাহতের অধিক সংখ্যায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে এবং দমন অভিযান অব্যহত থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আমি আগ্রহী : ক্রিস্টেনসেন

ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ : ট্রাম্প, তেহরানের দাবি ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই’

আজ (১৫ জানুয়ারি) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। নতুন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর, বহুমাত্রিক ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সোমবার সন্ধ‌্যায় ঢাকায় আসেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গত ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ক্রিস্টেনসেনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেন।

গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল

ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ : ট্রাম্প, তেহরানের দাবি ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই’

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমরা আগেই ঘোষণা করেছিলাম— এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার ছিল। আজ ক্যাবিনেটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদিত হয়েছে। আশা করি, আগামী পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে আমরা বুঝিয়েছি— ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ড। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট কোনো ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, তবে সরকার সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া, জুলাই-আগস্ট মাসে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা কর্মকাণ্ডের জন্য এখন থেকে আর নতুন কোনো মামলা করা যাবে না। ইতোমধ্যে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে সেই ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে সে রেহাই পাবে না। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রতিশোধস্পৃহা থেকে লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তবে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন করা হয়নি। আইনটি করা হয়েছে কেবল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগঠিত কার্যাবলি এবং সেই প্রক্রিয়ায় যারা সম্মিলিতভাবে (কালেক্টিভলি) যুক্ত ছিলেন, তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, কোন হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়ায় হয়েছে আর কোনটি ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ স্বার্থে করা হয়েছে— তা নির্ধারণের দায়িত্ব আমরা দিয়েছি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। কোনো ভিকটিমের পরিবার যদি মনে করে যে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তবে তারা মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। মানবাধিকার কমিশন যদি দেখে যে এটি ব্যক্তিগত স্বার্থে করা হয়েছে, তবে তারা তদন্ত করবে এবং তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবে। আদালতে সেই রিপোর্ট পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টাল ব্যালটের বিতর্ক নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে: আমির খসরু

ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ : ট্রাম্প, তেহরানের দাবি ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই’

পোস্টাল ব্যালটের বিতর্ক নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার স্বরণে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন শঙ্কার কথা জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এ সমস্যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে।’

গত ২০ বছর মানুষ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন দেখেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মানুষ আর কোনো বিতর্কিত নির্বাচন দেখতে চায় না। তারা চায় গ্রহণযোগ্য ভোট হোক। তাই পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের অবস্থান নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার জবাব নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এখনো সময় আছে এর প্রতিকার তাদের করতে হবে।’

নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা।

×