শিরোনাম:

নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের

নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের

স্বাভাবিকভাবে শীতের মৌসুমে বাজারে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে এবার শীতেও যেন সবজির বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন বাড়তি যাচ্ছে। মূলা আর পেঁপে ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু সবজি ১০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বেড়েছে পেয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন মজুদকৃত পেয়াজ শেষের দিকে থাকায় দাম এমন উর্ধ্বমুখী। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন বাড়তি দামে নাখোশ ক্রেতারা, প্রকাশ করছেন ক্ষোভ।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৩৮ থেকে ১৪৫ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা যায় ১৫০ টাকা কেজিতে। শুক্রবার ঢাকার রায়ের বাজার সাদেক খান কৃষি বাজারের পেঁয়াজের আড়ত এবং ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি শিম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১০০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১২০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস ও লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা ও চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটিতে ৫ টাকা কমে ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে নতুন আলু কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, পুরান আলু কেজিতে ১০ টাকা কমে ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিত ১৫০ টাকা ও পেঁয়াজ কলি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৭০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আলতাফ হোসেন সবজির দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শীত মৌসুম আসলে সব ধরনের সবজির দাম কমে যায়। কিন্তু এবার দেখছি উল্টোটা, শীত এসেছে ঠিকই কিন্তু সব সবজির দাম বেড়ে গেছে। এমন বাড়তি দাম আগে কখনো দেখিনি। তবুও বাধ্য হয়ে বাসায় খাবার জন্য সবজি কিনতে হচ্ছে, তবে আগে যেখানে এক কেজি কিনতাম, এখন সেটা আধা কেজি করে কিনতে হচ্ছে।’

সবজি দাম বাড়তি হওয়ার কারণ হিসেবে মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, ‘পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। সে কারণে আমাদের কেনা দাম বেশি পড়ছে, ফলে বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে।’

বাজারগুলোতে সোনালি কক মুরগি ২৭০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে: প্রধানমন্ত্রী

নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে এবং তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গতকাল বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেসব প্রকল্পকে তদন্তের অধীনে নেয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না, বরং একাধিক কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পদত্যাগ সায়মা ওয়াজেদের

নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের

অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে সায়মা ওয়াজেদ তার পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সায়মা ওয়াজেদের পাঠানো পদত্যাগপত্র দেখে নিশ্চিত করেছে।

ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে চীনে ভ্রমণ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপণ বা ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশের একটি প্লট বা জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ও তাঁর পদত্যাগপত্রে উঠে এসেছে, যা তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগদানের আগেই বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

মহাপরিচালককে লেখা চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেছেন, তিনি নিজ অঞ্চলের সেবা করার উদ্দেশ্যেই এই পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে মহাপরিচালক কর্তৃক তাঁর দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক বাধা সৃষ্টির কারণে নেতৃত্বের ওপর থেকে তিনি সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন। পাশাপাশি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার ফলে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

সংস্থাটি ইতিমধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের লক্ষ্যে ডাব্লিউএইচও আগামী ১২ অক্টোবর নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করতে পারে এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডাব্লিউএইচও-এর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও একই বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁকে প্রথম ছুটিতে পাঠানো হয়।

আহ্বায়ক সাইফুর সাগর-আহসান কামরুল-সদস্য সচিব

জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ

নিত্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের

‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’র আত্মপ্রকাশ । ছবি : সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়। ফেস দ্য পিপল এর সম্পাদক সাইফুর সাগর আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুল সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।

১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান কমিটি ঘোষণা করেন।

প্রথমেই স্বাগত বক্তব্যে জেজেইউ’র সদস্য ও অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান বলেন,: জেজেইউ এমন এক উদ্যোগ যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, এ সংগঠনের অঙ্গীকার হলো হামলা, মামলা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা। আমাদের অবস্থান সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে, পেশাগত মর্যাদার পক্ষে এবং জনগণের জানার অধিকারের পক্ষে।

আয়োজনে বক্তব্য রাখেন,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান,ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস,আলোকচিত্রী শহীদুল আলম,শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন,এবং শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান এবং জেজেইউ’র যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, জুলাই শহীদ পরিবারসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন: জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে। জুলাইপন্থী সব সাংবাদিকের জন্য এটি উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, অন্যদের সমালোচনা করার আগে আমাদের নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। আমরা যেন পূর্ববর্তীদের মতো না হয়ে যাই। এজন্য কেউ আহত হয় এমন কথার বদলে লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া নাটক-সিনেমা-গানসহ সৃষ্টিশীল কাজ করতে হবে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেছেন, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না। ক্ষুদ্র অংশ হলেও তাদের সমর্থন ছিল। দলান্ধতার বদলে তাদেরকে এখনও দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেছেন, প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার ছবি সাংবাদিকরাই ঝুলিয়েছিল। এখনও যাতে একই ধরনের কাজ না হয়। দেশের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তন হলে সাংবাদিকদের পালিয়ে যেতে না হয়।

জেজেইউ’র সদস্য সচিব আহসান কামরুল বলেন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যম সঠিক ভূমিকা রাখতে না পারলেও এখনো গণমাধ্যমের কাছে মানুষের কাছে প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই, তবে জুলাই গণহত্যাকারীদের পক্ষে যেন কেউ ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করব।

জেজেইউ’র যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়েও বহু সাংবাদিক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তারা সেসময়ে বঞ্চিত ছিল, এখনও বঞ্চিত। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জেজেইউ কাজ করে যাবে। দেরিতে হলেও এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হওয়ায় তারা আশা প্রকাশ করেন। তবে চরম শত্রুও যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান বাদল-প্রকাশক, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি; তালুকদার রুমী-সম্পাদক, দৈনিক পাঞ্জেরী, মাহমুদ রাকিব-এখন টিভি, আকতার হাবীব-প্রতিবেদক, চ্যানেল আই, শিমুল পারভেজ-দ্য নিউ নেশন, রিয়াজুর রহমান রিয়াজ-ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি, ইসরাফিল ফরাজী-দৈনিক জনকণ্ঠ।

যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আবদুর রহিম-দৈনিক জনকণ্ঠ, কেফায়েত শাকিল-বাংলাভিশন, নুরুল ইসলাম খান মামুন-ভিওডি বাংলা, ওবায়দুর রহমান-ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, একেএম রেজাউল করিম-ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, আশ্রাফ ফারুকী-অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, নিজাম উদ্দিন দরবেশ-দৈনিক বর্তমান, রহমতুল্লাহ-দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন : খোমেনি এহসান-সম্পাদক, অনলাইন বাংলা, আল ইমরান-এটিএন বাংলা, অন্তু মোজাহিদ-এশিয়া পোস্ট, জালাল আহমেদ-দৈনিক যায়যায়দিন, রাকেশ রহমান-ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, সাজ্জাদ হোসেন-সোনালী নিউজ, ফখরুল ইসলাম-মাল্টিমিডিয়া হেড, দৈনিক ইত্তেফাক, আবু বকর সিদ্দিক-আরটিএনএন, মিফতাহুল জান্নাত-দৈনিক মানবজমিন, ফারজানা ববি-বাংলানিউজ, তাসবির ইকবাল-বাংলাদেশ টাইমস, মোর্শেদুল আলম-নতুন আশা, কেফায়েত রুমী-দেশ রূপান্তর, মেহেদী হাসান বাপ্পি-দেশ টিভি, রাশেদ মানিক-চ্যানেল আই, ওমর ফারুক-বাংলাভিশন, এইচএম ইমরান হোসেন-স্টার নিউজ ও মেহরাজ রাব্বি-আজাদ বাণী।

×