রূপপুরে অগ্নিকাণ্ডের ৫০ ঘণ্টাতেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) ‘পাওনিয়ার বেজ’-এর সার্ভার রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ৩টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এবং ইডি প্রকল্পে যান। ফায়ার সার্ভিসের ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্পের অভ্যন্তরে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। আগুনে বায়েকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. কবীর হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুন লেগেছিল। তবে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য প্রকল্পের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি৷ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সার্ভার রুমে আগুন লাগায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত চলছে: প্রধানমন্ত্রী


















