শিরোনাম:

দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়াতেই বিস্ফোরক নোরা!

দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়াতেই বিস্ফোরক নোরা!

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক চক্র এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে বলিউড তারকা শ্রদ্ধা কাপুর ও নোরা ফতেহির। বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফতেহি এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করার চেষ্টা বলে তিনি দাবি করেছেন। নোরা ফতেহি জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলি তাঁর কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনকে ধ্বংস করার একটি অপচেষ্টা ছিল।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেল আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সলিম ডোলার ছেলে তাহের ডোলার মাদক চক্রের তদন্ত শুরু করে। সলিম ডোলা দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তদন্ত চলাকালীন, তাহের ডোলার হেফাজতের কপিতে নোরা ফতেহি, শ্রদ্ধা কাপুর ও তাঁর ভাই সিদ্ধান্ত কাপুর, আলিশা পার্কার-সহ আরও কয়েকজন বলিউড তারকার নাম উঠে আসে। অভিযোগে বলা হয় যে তাহের ডোলা দেশে-বিদেশে এই তারকারা-সহ অন্যান্যদের জন্য মাদক পার্টির আয়োজন করতেন এবং সেখানে মাদকের সরবরাহও করতেন।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নোরা ফতেহিকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তাঁকে নানাভাবে কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি এই ধরনের কোনও পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন না এবং মাদক চক্রের সঙ্গে তাঁর কোনও ধরনের সম্পর্ক নেই।

তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তাঁর মতো একজন কঠোর পরিশ্রমী এবং স্বাবলম্বী শিল্পীর সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হয়েছে। নোরা তাঁর সাফল্যের কারণে ইন্ডাস্ট্রির একটি অংশের ঈর্ষার শিকার হয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে নোরা ফতেহি মুম্বই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওরা আমাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।” তিনি আরও বলেন, বলিউডে অনেকেই আছেন, যাঁরা তাঁর সাফল্যকে ভাল চোখে দেখেন না এবং তাই সুযোগ পেলেই তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন। নোরা আরও জানান, যখন তাঁকে এই বিতর্কিত পার্টিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তখন তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর কেরিয়ারের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ধরনের মিথ্যা রটনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চরম আঘাত করেছে।

নোরা বলেন, এই কঠিন সময়ে তাঁর অনুরাগীরা এবং আইনি দল তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তদন্তে সর্বদা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাঁর বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। অভিনেত্রীর আইনি দলও এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাঁদের দাবি, কোনও প্রমাণ ছাড়াই নোরার নাম এই মামলায় টেনে আনা হয়েছে, যা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।

নোরা ফতেহির এই বক্তব্য বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও গুজবের ওপর আলোকপাত করে। তাঁর অনুরাগীরা এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-নারকোটিক্স সেল এই তারকাদের মাদক পার্টিতে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে। তবে, নোরা ফতেহি এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর কাজে মনোযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আশা করছেন যে, এই বিতর্ক দ্রুত শেষ হবে এবং তিনি আবার নিজের শিল্পী জীবনে মন দিতে পারবেন। এই তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কিত ঘটনার ভবিষ্যৎ।

শৈত্যপ্রবাহের পরিধির বিস্তার, অপরিবর্তিত তাপমাত্রা

দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়াতেই বিস্ফোরক নোরা!

দেশের চার জেলার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের এই পরিধি আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত ও বিস্তার লাভ করতে পারে। এছাড়া শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। হিমালয় পাদদেশীয় এই জেলায় টানা দশ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় মাঝারি ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে পুরো জেলা।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ঢাকায় সকালে তাপমাত্রা নেমেছে ১৬ ডিগ্রির ঘরে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় রাজধানীর আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় আকাশ থাকবে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন। তবে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা নেই। উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব খেলা বন্ধের ঘোষণা ক্রিকেটারদের

দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়াতেই বিস্ফোরক নোরা!

দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

সম্প্রতি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ইস্যুতে তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করে আলোচনায় আসেন নাজমুল। বুধবার সন্ধ্যায় দেশের সকল ক্রিকেটারদের নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেন তিনি।

নাজমুল বলেন, ক্রিকেটারদের পেছনে কোটি টাকা খরচ করছি কিন্তু তারা খারাপ খেললে কি টাকা ফেরত চাচ্ছি? এই বিষয়ে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যও করেন তিনি। সেই মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করা হয়।

সবার সম্মানহানি করা নাজমুলের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। তাই বৃ্‌হস্পতিবার দুপুরের ম্যাচের তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের সংগঠন কোয়াব। বুধবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় এই কথা বলেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন।

নিচে মিঠুনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওবার্তা তুলে ধরা হলো

“আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আপনারা বেশ কিছুদিন ধরে দেখছেন যে আমাদের ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে যেভাবে কমেন্টস করা হচ্ছে, একজন থেকে শুরু করে এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যে ধরনের ওয়ার্ড ইউজ করা হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা এটা কখনও এক্সপেক্ট করি না। তো আশা করি, একজন বোর্ড পরিচালকের আরো চিন্তাভাবনা করে প্লেয়ারদের ব্যাপারে কথা বলা উচিত বলে আমি মনে করি।”

“আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সময় অনেক সময় দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আপনারাও সে বিষয়ে অবগত আছেন যে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কখনোই আমাদেরকে রেসপন্স করে নাই। সবসময় তারা সময় বের করেছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোন একটা সিঙ্গেল বিষয়ে সমাধান পাইনি। আর বিশেষ করে লাস্ট যেই আমাদের বোর্ড পরিচালক যিনি যেই কথাটা বলেছেন এটা আমাদের পুরা ক্রিকেট অঙ্গনকে খুবই হার্ট করেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

“আমরা ইভেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়েও বোর্ডকে অনেক টাইম দিয়েছি, এখন পর্যন্ত কোন পজিটিভ রেজাল্ট পাইনি। আর লাস্ট যেই বোর্ড পরিচালক প্রতিনিয়ত যেই শব্দগুলো ইউজ করছে এটা টোটাল ক্রিকেট অঙ্গনকে অনেক হার্ট করেছে এবং প্লেয়াররা এটা কোনোভাবেই একসেপ্ট করতে চাচ্ছে না। সেজন্যে আমরা তার রিজন দাবি করছি। উনি যদি কালকে ম্যাচের আগে যদি রিজাইন না করেন, থেকে আমরা আমাদের সব ধরনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করছি।”

পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি বিএনপির

দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নাম জড়াতেই বিস্ফোরক নোরা!

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পোস্টাল ব্যালট ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ ভাঁজ করলে অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার শামিল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিএনপি গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালট যারা ডিজাইন করেছেন, তারা শুধু নৈতিক অন্যায়ই করেননি; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ তৈরি করেছেন। বিএনপি এ বিষয়ে কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার দাবি বিএনপির দীর্ঘদিনের। অনেক সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রথম সারিতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক রাখা হয়েছে, আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে যে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে তা স্পষ্ট দেখা যায় না। বিএনপির মতে, এটি কাকতালীয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে অক্ষরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীক সাজানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি ভিন্নভাবেও করা সম্ভব ছিল। তাই কারা এই নকশা তৈরি করেছে এবং কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি।

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতাদের বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়বে।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তার দাবি, এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া এনআইডি তৈরি বা অর্থের প্রলোভনে ভোট কেনার চেষ্টা হতে পারে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এসব কর্মকাণ্ড অনৈতিক ও বেআইনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। তিনি অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে বিএনপি প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও সব দলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের আচরণ করছে না, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না; বরং ব্যক্তিগত সফর ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই সফরও স্থগিত করা হয়েছে, কারণ বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে অন্য দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেষে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে।

×