শিরোনাম:

ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ

ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ

সারাদেশে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একইসঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং শীতের অনুভূতিও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত পরবর্তী পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। এসব এলাকার নৌ-যানসমূহকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, তবে কোনো সংকেত দেখাতে হবে না।

অন্যদিকে, উত্তরের জেলাতে আরও তীব্র হচ্ছে শীতের অনুভূতি। আজ সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

এদিকে দিনাজপুরে সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯২ শতাংশ। কুষ্টিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ।

আজ শুক্রবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে ঢাকায় শীত আরও জোরালো হচ্ছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইছে ঠান্ডা বাতাস, যার ফলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। আজ সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ (শুক্রবার) আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একইসাথে আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৫ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

৯ ডিগ্রিতে নামল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে শীত। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যেতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এই জেলায় সর্বনিম্ন।

ভোর ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের।

শহর ও গ্রাম– উভয় জনপদেই শীতের তীব্রতায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের দাপট কমছে না।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ সকালে রেকর্ড করা ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড়ের জনজীবন
পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন দিন দিন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জেলার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকার কারণে শীতের অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিনও বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। তবে বিকেলের দিকে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলেছিল। বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকেই আবার শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং বৃষ্টির মতো শিশির ঝরতে থাকে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও তাপমাত্রা আবার কমছে। আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।

আগামীকাল শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের মার্কিন ভিসা বন্ধে কী প্রভাব পড়বে

ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে নানা ক্ষেত্রে। আবেদনকারীদের মুখোমুখি হতে হবে যাচাই-বাছাইয়ের।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিত কার্যক্রম শুরু হবে এবং পুনঃমূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল ধরে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেইট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, তারা ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে ভিসা আবেদনকারীদেরকে সমালোচনার ভিত্তিতে বাতিল করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক বিনিময়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে বহু মানুষ মার্কিন ভিসা নিয়ে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কাজে যান। এখন তাদের যাত্রা স্থগিত হবে এবং আবেদনকারীদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

সিএনএন লিখেছে, নতুন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করছে। তবে এই স্থগিতাদেশ অস্থায়ী হিসেবে কেউ থাকলে, পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসাসহ অভিবাসী ছাড়া বাকিদের জন্য নয়।

মার্কিন ভিসা আবেদনের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় এসব বিষয় নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, অভিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা হওয়া যাবে না।

ভিসা প্রসেসিং স্থগিতের নির্দেশ পাওয়া দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে মন্তব্য করে এসব দেশের অভিবাসীরা যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ–সুবিধা ব্যবহার না করে বা জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর সমস্ত নীতি, প্রবিধান এবং নির্দেশিকা সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করছে বলে বার্তায় জানানো হয়।

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মার্কিন ভিসা প্রসেসিং সেন্টার। ওয়েবসাইটে দেওয়া ওই বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওইসব দেশের নাগরিকদের কোনো অভিবাসী ভিসা দেওয়া হবে না। তবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশের বৈধ পাসপোর্টধারীরা আবেদন করতে পারবেন। তারা কোনো সমস্যায় পড়বেন না।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে দেখব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সাহায্যের ওপর নির্ভর হতে পারেন কি না। যারা হবেন বলে মনে হবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।’

বছরের প্রথম দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এক লক্ষাধিক ভিসা বাতিল করেছিল। নতুন স্থগিতাদেশে কেবলমাত্র ‘সীমিত ক্ষেত্রে’ ছাড় দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী পাবলিক চার্জের শর্ত পুরোপুরিভাবে পাস করবে।

২০০২ সালের বিধি অনুযায়ী কনস্যুলাররা পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে বিস্তৃত করেছিল, পরে বাইডেন প্রশাসন সেই পরিবর্তন কিছুটা বাতিল করেছিল। এবার পুনঃমূল্যায়নের জন্য ৭৫ দেশের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।

স্থগিতাদেশে থাকা দেশগুলো–আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভূটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবন্ধের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ

মার্কিন-মধ্যস্থতায় গাজায় হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবন্ধ পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গতকাল (বুধবার, ১৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় সব সেনা সরিয়ে নেয়া হবে এবং পুনর্গঠন এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া হামাস তার বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যার মধ্যে জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়াও অন্তর্ভুক্ত। শর্ত পূরণ না করলে গুরুতর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

এর আগে, ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় এখন ৪শ’র বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিয়েছে।

বিকল্প নেতৃত্বের অভাব: ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ঘন কুয়াশা বাড়ছে, নৌযানসমূহকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ

ইরানে বর্তমানে এমন কোনো ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দল নেই, যারা খামেনিতন্ত্রের বিকল্প সরকার গঠনে প্রস্তত। কারণ দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য ভিন্ন। আবার কারও সুনির্দিষ্ট নেতা আছে, কারও নেই। এক্ষেত্রে সহিংস বিক্ষোভ ও মার্কিন হস্তক্ষেপে বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন হলে ইরান বড় ধরনে সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির কথা সামনে আসলেও তার নেতৃত্ব মানার মতো কোনো আভাসও মিলছে না।

অর্থনৈতিক সংকটে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে যা রূপ নেয় ইসলামী প্রজাতন্ত্র বা খামেনিতন্ত্র উৎখাতের আন্দোলনে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এখন সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি শিয়াপন্থী ধর্মীয় নেতাদের শাসন ব্যবস্থা। আরও বেশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন ব্যবস্থার যদি ইতি ঘটে তাহলে শক্ত হাতে ইরানের হাল কে বা কারা ধরবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত রাজা শাহ মোহাম্মদের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি প্রবাসী ইরানীদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তাকে নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ইরান ন্যাশনাল কাউন্সিলও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

চাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক ড. সানাম ভাকিল বলেন, আমার মনে হয় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের উৎখাতে ইরানিরা অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু পরবর্তীতে কী হবে বা পরবর্তীতে কে দেশের হাল ধরবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি এখনও অতীতের স্মৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু ইরানের অভ্যন্তরের মানুষের জন্য তিনি হয়তো প্রথম পছন্দ নন।

১৯৭০-এর দশকে শাহ সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বামপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে ইরানের মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন সক্রিয় থাকলেও বর্তমান আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। এমনকি ১৯৮০ দশকের যুদ্ধে ইরাকের পক্ষ নেয়ায় অনেক ইরানি তাদের ঘৃণা করেন। এছাড়া ২০০২ সালে এরাই প্রথম ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির তথ্যও ফাঁস করেছিলো। দলটির নেতা মাসুদ রাজাভি’র স্ত্রী মরিয়ম রাজাভি বর্তমানে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্ধ আনুগত্যের নীতি ও অনুসারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগেও দলটি পিছিয়ে আছে।

শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে সুন্নিপন্থী কুর্দি ও বেলুচ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই বর্তমান সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। যার কারণে ইরানে সরকার বিরোধী যেকোনো আন্দোলন হলেই কুর্দি ও বেলুচ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি উত্তাল থাকে। তবে কোনও অঞ্চলেই এমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেখা যায়নি, যা তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার জন্য স্পষ্ট হুমকি।

২০০৯ সালের জুনে ইরানের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ ছিল মূলত পেশাজীবী, নারী অধিকার-কর্মী ও সুশীল সমাজের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর-হোসেইন মুসাভি এই আন্দোলনের প্রতীকী নেতা ছিলেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। আরেক সংস্কারপন্থী নেতা মেহেদি কারুবিও গৃহবন্দী ছিলেন গত বছরের মার্চ পর্যন্ত। বর্তমান বিক্ষোভে এই দুই নেতারও তেমন কোনো প্রভাব নেই।

বিক্ষোভকারীরা এখন নিজেদের কোনো একক নেতার অধীনে সংগঠিত না করে নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের এই ধরণকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের জেনজি বিক্ষোভের সঙ্গেও মিল দেখছেন বিশ্লেষকরা।

×