সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির বাজার চড়া, কমেছে মুরগির দাম
কয়েক দিনের বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহনের খরচ বেশি হওয়া এবং বেশ কিছু সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে সরবরাহ কম— এমন সব কারণ দেখিয়ে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে।
কিন্তু সরবরাহ বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে আজ সবজির দাম চড়া দেখা গেছে। সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি ৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমেছে।
শুক্রবার (০৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে কাঁকরোল, শসা ও বেগুন, যেগুলোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এসব বাজারে করলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে কাঁচা আম প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ২০ বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এবং হাইব্রিড ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে বাজারগুলোতে লেবুর দাম কমতে শুরু করেছে। এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চালকুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুলকপি মিডিয়ায় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, আজকে বাজারে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। এত বেশি দামে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়া অনেকটাই কঠিন।
সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা চাঁদ মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো সবজি পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে, এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কৃষকের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি সরবরাহ তুলনামূলক কম; সব মিলিয়ে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সে কারণেও সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সবজির দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের মতো খুচরা ও ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়ে গেছে, আমাদের বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বাদামি রঙের ছোট ও মাঝারি আকারের মিক্স ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির বাদামি ডিমের ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া হাঁসের ডিম এক ডজন ২২০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিম হালি ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকায়, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা আতাউর রহমান বলেন, ডিমের দাম দেখে অবাক হচ্ছি, ১৫০ টাকা ডজন হলে এক হালি ৫০ টাকা। এই একটা জিনিসই একটু কম ছিল। সেটাও দুই তিন সপ্তাহ যাবৎ বেশি। আর ২০০ টাকার নিচে তো কোনো মাছই পাওয়া যায় না।

দেশের প্রতিটি নাগরিককে মাথায় রেখেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী


















