২৩ দিন পর ইস্টার্ন রিফাইনারিতে উৎপাদন শুরু
ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটে টানা ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় সচল হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শোধনাগারটির উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়।
সৌদি আরব থেকে আমদানি করা ক্রুড অয়েল দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
ভোর ৫টা থেকেই ফায়ার্ড হিটারে প্রসেসিং শুরু হলেও এক ঘণ্টা পর থেকে উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করে নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মের স্টোরেজে পাঠানোর কাজ শুরু হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ৮টায় প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
এর আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা একটি ট্যাংকার গত বুধবার দুপুরে কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাহাজটি থেকে লাইটারিং কার্যক্রম শুরু হয় এবং তেল শোধনাগারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে প্ল্যান্ট চালুর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিলে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ইআরএল আংশিকভাবে চালু ছিল। পরে ১২ এপ্রিল থেকে মূল উৎপাদন ইউনিট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে শোধনাগারটির অন্যান্য ইউনিটও পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে পড়ে।
ইআরএলে দৈনিক প্রায় চার হাজার টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেলের চালান আসে। এরপর মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা বাড়তে থাকে, যা এপ্রিলের মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। বাংলাদেশ জি টু জি (সরকারি চুক্তি) পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব তেল আমদানি করে।
এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন সচল রাখা যাবে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে তেলের নতুন চালান দেশে আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ফুজাইরা বন্দরটি পারস্য উপসাগর বা গালফের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এর সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
জাহাজটি ১০ মে রওনা দিয়ে ২৫ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাসে অন্তত ৪ লাখ টন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসসি। বর্তমানে ইআরএল-এ মোট ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

দেশের প্রতিটি নাগরিককে মাথায় রেখেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী


















