একদিনে হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১৮ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গত একদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৭ হাজার ৩০৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯ হাজার ১৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
তবে রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালের চিত্র বলছে ভিন্ন বাস্তবতার কথা। কোলে জ্বরাক্রান্ত শিশু, চোখে আতঙ্ক আর দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে আসছেন অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
অসুস্থ শিশুর অভিভাবকরা জানান, হাসপাতালে শিশুকে নিয়ে আসার পরও কোনো উন্নতি দেখছেন না তারা। প্রায় ১ মাসের বেশি অসুস্থ থাকার পরও সুস্থ হচ্ছে না শিশু।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীই ঢাকার বাইরের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে। যেখানে অনেক শিশুই এখনো টিকার আওতার বাইরে।
মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের এডমিন অফিসার ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাগুলো দেখা যাচ্ছে হয়তো খেতে পারছে না। ডিহাইড্রেটেড থাকছে বাচ্চাগুলো, একদমই খেতে পারছে না। সঙ্গে হচ্ছে সর্দি, কাশি, কারো কারো শ্বাসকষ্টও থাকছে। ঢাকার ভেতর থেকে যে রোগীগুলো আসছে সেগুলো মোটামুটি আমাদের আর্লি আমরা আসতে পারছি। বাট ঢাকার বাইরে থেকে যে রোগীগুলো আসছে তারা বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে একটু দেরিতেই আসছে আমাদের কাছে।’
চিকিৎসকরা আরও বলছেন, টিকা নেওয়া থাকলেও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘একটি বাচ্চাকে টিকা নেওয়ার পরে তার শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হতে সময় লাগে তিন থেকে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি লাগতে পারে। কিন্তু সেটা কতটুকু করবে, কতটুকু সময়ের মধ্যে এটা হবে এবং কত পারসেন্ট মানে কতটুকু মাত্রায় এটা হবে তা কিন্তু অনেক ফ্যাক্টরের ওপর ডিপেন্ড করে। এর মধ্যে সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্টর হচ্ছে তার পুষ্টি। পুষ্টিহীন যদি বাচ্চাটি অপুষ্ট থাকে, তাহলে সে বাচ্চাটি কিন্তু একটি টিকা দেয়ার পরেও তার যে কাঙ্ক্ষিত যে ইমিউনিটিটা, যে প্রোটেকশনটা পাওয়ার কথা, সেই প্রোটেকশনটা কিন্তু তৈরি নাও হতে পারে।’
ডিএনসিসি হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১০৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে একজন শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

দেশের প্রতিটি নাগরিককে মাথায় রেখেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী


















