শিরোনাম:

ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

ঢাকায় পৌষের শীত আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আজ সকালে রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেইসঙ্গে ভোর থেকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশাও দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমে গেলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এতে করে আগের তুলনায় আজ দিনেও ঠান্ডা কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে।

এদিকে দেশের আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ ছাড়া আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল সকাল রোদের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। এতে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর মধ্যে থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এদিকে, তীব্র শীতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোটাভাইরাস জনির কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপাতালের আউটডোরে ২০০-৩০০ বয়োবৃদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন ৩০০-৪০০ শিশু রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।

আজিম উদ্দিন নামের এক কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা রোগী তিনি। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। সকালে ক্ষেতে কাজ করতে পারি না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারও কাজ করতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনপদ। কুয়াশার কারণে জেলার সড়কগুলোতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ১০০।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ চরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া কুয়াশায় কাজের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষজন পড়ছেন ভোগান্তির মুখে। তীব্র ঠান্ডায় সবজি খেত ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা দিনদিন বেড়েই চলেছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ জানান, শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। শিশুদের বাইরে নিয়ে গেলে ধুলাবালি ও ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। কুয়াশায় কোনোভাবে শিশুদের বের করা উচিত হবে না।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, জেলায় আজ সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০। চলতি সপ্তাহে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

সিরাজগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার।

বেলা ১১টায় বিষয়টি তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত তাপমাত্রার রেকর্ড করছি৷ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে৷

তীব্র শীত ও কুয়াশায় সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও এখনো সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে এবং বাতাসের কারণে মানুষজন আরও বিপাকে পড়েছেন।

তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি
পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও যানবাহন চালকরা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। মাঝখানে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দিনগুলোতে আবার কমছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ৩০ লাখ টাকায় ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন এনজিও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।

পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব খেলা বন্ধের ঘোষণা ক্রিকেটারদের

ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

সম্প্রতি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ইস্যুতে তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করে আলোচনায় আসেন নাজমুল। বুধবার সন্ধ্যায় দেশের সকল ক্রিকেটারদের নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেন তিনি।

নাজমুল বলেন, ক্রিকেটারদের পেছনে কোটি টাকা খরচ করছি কিন্তু তারা খারাপ খেললে কি টাকা ফেরত চাচ্ছি? এই বিষয়ে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যও করেন তিনি। সেই মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করা হয়।

সবার সম্মানহানি করা নাজমুলের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। তাই বৃ্‌হস্পতিবার দুপুরের ম্যাচের তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের সংগঠন কোয়াব। বুধবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় এই কথা বলেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন।

নিচে মিঠুনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওবার্তা তুলে ধরা হলো

“আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আপনারা বেশ কিছুদিন ধরে দেখছেন যে আমাদের ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে যেভাবে কমেন্টস করা হচ্ছে, একজন থেকে শুরু করে এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যে ধরনের ওয়ার্ড ইউজ করা হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা এটা কখনও এক্সপেক্ট করি না। তো আশা করি, একজন বোর্ড পরিচালকের আরো চিন্তাভাবনা করে প্লেয়ারদের ব্যাপারে কথা বলা উচিত বলে আমি মনে করি।”

“আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সময় অনেক সময় দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আপনারাও সে বিষয়ে অবগত আছেন যে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কখনোই আমাদেরকে রেসপন্স করে নাই। সবসময় তারা সময় বের করেছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোন একটা সিঙ্গেল বিষয়ে সমাধান পাইনি। আর বিশেষ করে লাস্ট যেই আমাদের বোর্ড পরিচালক যিনি যেই কথাটা বলেছেন এটা আমাদের পুরা ক্রিকেট অঙ্গনকে খুবই হার্ট করেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

“আমরা ইভেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়েও বোর্ডকে অনেক টাইম দিয়েছি, এখন পর্যন্ত কোন পজিটিভ রেজাল্ট পাইনি। আর লাস্ট যেই বোর্ড পরিচালক প্রতিনিয়ত যেই শব্দগুলো ইউজ করছে এটা টোটাল ক্রিকেট অঙ্গনকে অনেক হার্ট করেছে এবং প্লেয়াররা এটা কোনোভাবেই একসেপ্ট করতে চাচ্ছে না। সেজন্যে আমরা তার রিজন দাবি করছি। উনি যদি কালকে ম্যাচের আগে যদি রিজাইন না করেন, থেকে আমরা আমাদের সব ধরনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করছি।”

পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি বিএনপির

ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পোস্টাল ব্যালট ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ ভাঁজ করলে অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার শামিল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিএনপি গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালট যারা ডিজাইন করেছেন, তারা শুধু নৈতিক অন্যায়ই করেননি; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ তৈরি করেছেন। বিএনপি এ বিষয়ে কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার দাবি বিএনপির দীর্ঘদিনের। অনেক সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রথম সারিতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক রাখা হয়েছে, আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে যে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে তা স্পষ্ট দেখা যায় না। বিএনপির মতে, এটি কাকতালীয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে অক্ষরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীক সাজানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি ভিন্নভাবেও করা সম্ভব ছিল। তাই কারা এই নকশা তৈরি করেছে এবং কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি।

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতাদের বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়বে।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তার দাবি, এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া এনআইডি তৈরি বা অর্থের প্রলোভনে ভোট কেনার চেষ্টা হতে পারে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এসব কর্মকাণ্ড অনৈতিক ও বেআইনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। তিনি অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে বিএনপি প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও সব দলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের আচরণ করছে না, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না; বরং ব্যক্তিগত সফর ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই সফরও স্থগিত করা হয়েছে, কারণ বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে অন্য দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেষে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে।

গ্যাজেটের ধারাবাহিকতা হিসাবেই পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক ছাপানো হয়েছে: ইসি সচিব

ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি

গ্যাজেটের ধারাবাহিকতা হিসাব করেই পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ (বুধবার, ৪ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানি শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এছাড়া বাহরাইনের একটি ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে অন্যের পোস্টাল ব্যালটের খাম সরবরাহের বিষয়টি দেশটির পোস্ট অফিস তদন্ত করবে বলেও জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।

এদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে শুনানির পঞ্চম দিনে মোট ১০০টি আপিল শুনানি হয়। যার মধ্যে ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়। বাকি ১৭ আপিল নামঞ্জুর করা হয়। আর ১০টি আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ করা হয়েছে।

কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর আজ ২৮১ থেকে ৩৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচদিনে মোট ৩৮০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৭৭ টি আপিল মঞ্জুর এবং বাতিল ৮১ টি আর অপেক্ষমাণ আছে ২৩টি।

×