ঢাকায় বাড়ছে শীত: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি
ঢাকায় পৌষের শীত আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আজ সকালে রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেইসঙ্গে ভোর থেকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশাও দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমে গেলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এতে করে আগের তুলনায় আজ দিনেও ঠান্ডা কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে।
এদিকে দেশের আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ ছাড়া আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল সকাল রোদের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। এতে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর মধ্যে থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এদিকে, তীব্র শীতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রোটাভাইরাস জনির কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপাতালের আউটডোরে ২০০-৩০০ বয়োবৃদ্ধরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া প্রতিদিন ৩০০-৪০০ শিশু রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।
আজিম উদ্দিন নামের এক কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা রোগী তিনি। কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। সকালে ক্ষেতে কাজ করতে পারি না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারও কাজ করতে হয়।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনপদ। কুয়াশার কারণে জেলার সড়কগুলোতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ১০০।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ চরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া কুয়াশায় কাজের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষজন পড়ছেন ভোগান্তির মুখে। তীব্র ঠান্ডায় সবজি খেত ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ জানান, শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। শিশুদের বাইরে নিয়ে গেলে ধুলাবালি ও ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে। কুয়াশায় কোনোভাবে শিশুদের বের করা উচিত হবে না।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, জেলায় আজ সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০। চলতি সপ্তাহে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
সিরাজগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এদিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার।
বেলা ১১টায় বিষয়টি তাড়াশ পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা নিয়মিত তাপমাত্রার রেকর্ড করছি৷ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে৷
তীব্র শীত ও কুয়াশায় সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও এখনো সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে এবং বাতাসের কারণে মানুষজন আরও বিপাকে পড়েছেন।
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি
পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক, মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। মাঝখানে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দিনগুলোতে আবার কমছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ৩০ লাখ টাকায় ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন এনজিও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।

পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব খেলা বন্ধের ঘোষণা ক্রিকেটারদের














