রাতে আরও বাড়বে শীত, উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশার আভাস
উত্তরের হিমশীতল বাতাসে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। দিনেও হালকা কুয়াশার কারণে তিনদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। বিকেলের পর শুরু হয় ঘনকুয়াশা। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে বেড়ে যায় কুয়াশার দাপট। রাতভর শিশিরের মতো কুয়াশা ঝড়ে।
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাতে সারাদেশে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে। একইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। এ সময় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, ফলে শীতের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আজ রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দিনের (সর্বনিম্ন) তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০। নওগাঁর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় শুষ্কতা বজায় থাকলেও কুয়াশা ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারা দেশের কোথাও কোথাও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ও পঞ্চম দিন (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এসময় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এ দুই দিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী পাঁচদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ ছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি
রাজশাহীতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি। এই পর্যন্ত এটি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তারা সকাল ৬টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এতে জেলাজুড়ে শীতের অনুভূতি বেড়েছে কয়েকগুণ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সূর্যাদয় ছিল ৬টা ৪৫ মিনিটে। কিন্তু সকাল ৮টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। ভোরের আকাশ থেকে নামা ঘন কুয়াশায় চারপাশ ঢেকে গেছে। সড়কে ফগার লাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহনগুলো। সূর্যের দেখা না মেলায় হিমেল বাতাসে মানুষ কাবু হয়ে গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে শীত বাড়বে। এছাড়া জেলায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কাছাকাছি হওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যাবধান ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী তারেক আজিজ বলেন, রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি। এছাড়া বাতাসের আর্দ্রতা শতভাগ রয়েছে।
পঞ্চগড়ে তিনদিন সূর্যের দেখা নেই
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ জেলার আশপাশের এলাকায় বিকেলের পর শুরু হয় ঘনকুয়াশা। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে বেড়ে যায় কুয়াশার দাপট। রাতভর শিশিরের মতো কুয়াশা ঝড়ে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দিনের (সর্বনিম্ন) তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। গতকাল বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দিনের (সর্বোচ্চ) তাপমাত্রা অল্প বেড়ে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি থেকে রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি।
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা, হিম বাতাসে জনজীবন স্থবির
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর শীতের প্রকোপ বেড়েই চলছে। দিনের বেলা হিম বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় কাজকর্মে যেতে না পারায় বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষজন। ফলে কাজের ফাঁকে শুকনো খড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, আপাতত শীত ও ঠান্ডায় কোন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। আমরা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছি যাতে বীজতলার কোনো ক্ষতি না হয়।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, বৃহস্পতিবার জেলায় সকাল ৬টায় ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা ১০০। আগামী দুই থেকে তিনদিন এমন তাপমাত্রা অব্যহত থাকবে। তবে মাসের শেষে একটি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
নওগাঁয় তাপমাত্রা ১২.২ ডিগ্রিতে
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সন্ধ্যার পরের হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলছে কয়েকগুণ। দিনে ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমজীবী এবং নিম্নমধ্য আয়ের মানুষদের।
নওগাঁর বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দুপুর ১টার পর সূর্যের দেখা মিললেও আজ এখন অব্দি দেখা মিলেনি সূর্যের। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে চারপাশ। ছোট থেকে মাঝারি যানবহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুব আলম বলেন, জেলায় আজকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিনে সূর্য ঠিক মতো উদিত না হওয়ার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। সামনে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব খেলা বন্ধের ঘোষণা ক্রিকেটারদের














