শিরোনাম:

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

হৈমন্তি হাওয়ায় পায়ের শব্দ পাওয়া যায় শীতের। সেই শব্দ নগরবাসীর কানে উঠে আসে না এখন তেমন। কানে নেয়ার ফুরসত কোথায়? ব্যস্ততা আর কংক্রিটের আছে আড়াল। সেই সুযোগটি নেয় শীত সংগোপনে এসে জড়িয়ে ধরে । এবারও তেমনটিই হলো। তবে এবারের আলিঙ্গনে হিমের কঠোরতা বেশ। কংক্রিটের এ তিলোত্তমায় হঠাৎ কুয়াশার চাদর। বুড়িগঙ্গার বুক ছুঁয়ে উঠে আসা ধূসরতা, লঞ্চঘাটের নিস্তব্ধতা আর ভোরের ঠান্ডা বাতাস এ যেন ঢাকার অন্য এক রূপ।

জানুয়ারি মাসেই চার ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে তাপমাত্রা৷ বয়ে যেতে পারে পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ। দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়/নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নাই। এ সময়ে ২-৩টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি) থেকে মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি) এবং ১-২টি মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি) থেকে তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি) সেলসিয়াসের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

এদিকে জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ১.৫০-৩.৫০ মি.মি. এবং গড় সূর্য কিরণকাল ৩.৫০-৫.৫০ ঘণ্টা থাকতে পারে।

ঢাকা জুড়ে আজও শীত এবং কুয়াশার দাপট অব্যাহত রয়েছে। সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়লেও রাজধানীর আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় অনেক এলাকায় দৃষ্টিসীমাও কমে গেছে। তবে তাতে থেমে থাকে না ব্যস্ত নগরজীবন। এ শহর চলছেই, নিজের গতিতে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে সুস্থ থাকতে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেই আজ ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় কুয়াশার প্রভাব থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও শীতের অনুভূতি পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন রয়েছে। তবে গতকালের তুলনায় শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু অংশ ছাড়া দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই কুয়াশা বিরাজ করছে।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, শীতকালে কুয়াশা স্বাভাবিক হলেও এ বছর এর ঘনত্ব বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ পশ্চিমা লঘুচাপের অনুপস্থিতি। সাধারণত প্রতি মাসে একাধিকবার পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় হয়, যার ফলে বৃষ্টিপাত হয় এবং কুয়াশা কমে আসে। একই সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়লে কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ ধরনের লঘুচাপের দেখা মেলেনি।

এদিকে কুয়াশার পাশাপাশি রাজধানীর বায়ুদূষণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৫৫, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। বৃহস্পতিবার সকালে এ মান ছিল ১৭৭, তবে রাতের দিকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৭-এ। দূষণের প্রধান উপাদান হিসেবে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর মাত্রা বেশি রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইতোমধ্যে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা কিছুটা কমেছে। তবে ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এখনও কুয়াশা রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানায়, দেশের মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে।

এদিকে আগামীকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি
যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবারও এ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

এদিকে, টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দু’দিনই এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২৭ ডিসেম্বর ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এই অনুযায়ী যশোরাঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা
টানা তিন দিন ধরে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জনপদ। হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষদের।

শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, টানা তিন দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আগামী এক থেকে দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে নাও থাকতে পারে। তবে আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত
পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর্যায়ে নেমে এসেছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকলেও সূর্য ওঠার পর ঝলমলে রোদের দেখা মিলছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই দিনে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে, তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই রয়েছে।

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে শীতের তীব্রতা
কুষ্টিয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আজ (শুক্রবার, ২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

ভোর থেকেই আকাশ ঢেকে থাকে ঘন কুয়াশায়। দিনের বেলাতেও সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বেলা বাড়লে সূর্যের দেখা মিললেও তীব্র শীত ও ঠান্ডা বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

প্রয়োজনের তাগিদে সকাল থেকেই কাজে বের হতে দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষ ও রিকশাচালকদের। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

কুমারখালী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমছে, ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এ অবস্থা আরও দুই-একদিন থাকতে পারে। এসময় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্ক থাকতে হবে।’

শৈত্যপ্রবাহে স্থবির কুড়িগ্রামের জনজীবন
ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে কুড়িগ্রামের চারপাশের পরিবেশ। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত শীতল বাতাসে কাঁপুনি বেড়েই চলেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ আছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, কুড়িগ্রাম জেলায় আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব খেলা বন্ধের ঘোষণা ক্রিকেটারদের

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

সম্প্রতি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ইস্যুতে তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করে আলোচনায় আসেন নাজমুল। বুধবার সন্ধ্যায় দেশের সকল ক্রিকেটারদের নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেন তিনি।

নাজমুল বলেন, ক্রিকেটারদের পেছনে কোটি টাকা খরচ করছি কিন্তু তারা খারাপ খেললে কি টাকা ফেরত চাচ্ছি? এই বিষয়ে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যও করেন তিনি। সেই মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করা হয়।

সবার সম্মানহানি করা নাজমুলের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। তাই বৃ্‌হস্পতিবার দুপুরের ম্যাচের তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের সংগঠন কোয়াব। বুধবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় এই কথা বলেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন।

নিচে মিঠুনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওবার্তা তুলে ধরা হলো

“আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আপনারা বেশ কিছুদিন ধরে দেখছেন যে আমাদের ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে যেভাবে কমেন্টস করা হচ্ছে, একজন থেকে শুরু করে এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যে ধরনের ওয়ার্ড ইউজ করা হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা এটা কখনও এক্সপেক্ট করি না। তো আশা করি, একজন বোর্ড পরিচালকের আরো চিন্তাভাবনা করে প্লেয়ারদের ব্যাপারে কথা বলা উচিত বলে আমি মনে করি।”

“আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সময় অনেক সময় দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আপনারাও সে বিষয়ে অবগত আছেন যে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কখনোই আমাদেরকে রেসপন্স করে নাই। সবসময় তারা সময় বের করেছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোন একটা সিঙ্গেল বিষয়ে সমাধান পাইনি। আর বিশেষ করে লাস্ট যেই আমাদের বোর্ড পরিচালক যিনি যেই কথাটা বলেছেন এটা আমাদের পুরা ক্রিকেট অঙ্গনকে খুবই হার্ট করেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”

“আমরা ইভেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়েও বোর্ডকে অনেক টাইম দিয়েছি, এখন পর্যন্ত কোন পজিটিভ রেজাল্ট পাইনি। আর লাস্ট যেই বোর্ড পরিচালক প্রতিনিয়ত যেই শব্দগুলো ইউজ করছে এটা টোটাল ক্রিকেট অঙ্গনকে অনেক হার্ট করেছে এবং প্লেয়াররা এটা কোনোভাবেই একসেপ্ট করতে চাচ্ছে না। সেজন্যে আমরা তার রিজন দাবি করছি। উনি যদি কালকে ম্যাচের আগে যদি রিজাইন না করেন, থেকে আমরা আমাদের সব ধরনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করছি।”

পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনারদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি বিএনপির

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে পোস্টাল ব্যালট ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ ভাঁজ করলে অস্পষ্ট হয়ে যায়, যা প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করার শামিল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিএনপি গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালট যারা ডিজাইন করেছেন, তারা শুধু নৈতিক অন্যায়ই করেননি; বরং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পথ তৈরি করেছেন। বিএনপি এ বিষয়ে কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার দাবি বিএনপির দীর্ঘদিনের। অনেক সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংখ্যা পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রথম সারিতে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক রাখা হয়েছে, আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে যে ব্যালট পেপার ভাঁজ করলে তা স্পষ্ট দেখা যায় না। বিএনপির মতে, এটি কাকতালীয় নয়, বরং ইচ্ছাকৃত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে অক্ষরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীক সাজানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি ভিন্নভাবেও করা সম্ভব ছিল। তাই কারা এই নকশা তৈরি করেছে এবং কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি।

বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাহরাইন ও ওমানে জামায়াত নেতাদের বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়বে।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তার দাবি, এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া এনআইডি তৈরি বা অর্থের প্রলোভনে ভোট কেনার চেষ্টা হতে পারে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এসব কর্মকাণ্ড অনৈতিক ও বেআইনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। তিনি অভিযোগ করেন, নানা অজুহাতে বিএনপি প্রার্থীদের শোকজ করা হলেও সব দলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একই ধরনের আচরণ করছে না, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর ছিল না; বরং ব্যক্তিগত সফর ছিল। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই সফরও স্থগিত করা হয়েছে, কারণ বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে অন্য দলগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেষে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু থেকেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে।

গ্যাজেটের ধারাবাহিকতা হিসাবেই পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক ছাপানো হয়েছে: ইসি সচিব

কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাজধানী; এ মাসেই পাঁচটি শৈত্য প্রবাহ

গ্যাজেটের ধারাবাহিকতা হিসাব করেই পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক ছাপানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ (বুধবার, ৪ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানি শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এছাড়া বাহরাইনের একটি ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে অন্যের পোস্টাল ব্যালটের খাম সরবরাহের বিষয়টি দেশটির পোস্ট অফিস তদন্ত করবে বলেও জানিয়েছেন আখতার আহমেদ।

এদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে শুনানির পঞ্চম দিনে মোট ১০০টি আপিল শুনানি হয়। যার মধ্যে ৭৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়। বাকি ১৭ আপিল নামঞ্জুর করা হয়। আর ১০টি আপিল শুনানি অপেক্ষমাণ করা হয়েছে।

কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর আজ ২৮১ থেকে ৩৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে গত পাঁচদিনে মোট ৩৮০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৭৭ টি আপিল মঞ্জুর এবং বাতিল ৮১ টি আর অপেক্ষমাণ আছে ২৩টি।

×