শিরোনাম:

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে জেঁকে বসেছে হাড় হিম করা শীত। সেই সঙ্গে দেশের ২৪ জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। এই অবস্থায় নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাটি।

এদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ ৪টি জেলার ওপর দিয়ে আরও কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে গিয়ে এসব তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলায় টানা পাঁচ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

এদিকে, শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্করা। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। এই মুর্হূতে শীত বস্ত্রের পাশাপাশি মানুষে খাদ্য সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে বোরো আবাদ ব্যহত হতে বসেছে। ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতে গবাদি পশুর নানা রোগ বালাই বাড়ছে। ঘটছে প্রাণহানি।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আবহাওয়া সব সময় ভিন্ন থাকে। বিশেষ করে উত্তরের হিমালয় এবং তারও উত্তরের সাইবেরিয়ান অঞ্চলের কারণে এখানে শীতকালের মৌসূম অনেকটা দীর্ঘ হয়। এরই প্রভাবে পুরো ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়েই এ অঞ্চলে থাকে শীতের তীব্রতা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর হেরফের হয় শীতের। তারা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসূমে শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেশি। মধ্য ডিসেম্বর থেকে উত্তরের হিম বাতাস প্রবাহিত শুরু হওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কমছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক দিনই সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, শুক্র ও শনিবার (৯-১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এ দু’দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শনিবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্র ও শনিবারও দেশের কিছু কিছু জায়গায় শৈত্যপ্রবাহের এমন দাপট থাকতে পারে।

এছাড়া আগামী রোববার থেকে মঙ্গলবার (১১-১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে এই ৩ দিনে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

এর মধ্যে রোববার রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পাশাপাশি সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা। এছাড়া মঙ্গলবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের মার্কিন ভিসা বন্ধে কী প্রভাব পড়বে

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়বে নানা ক্ষেত্রে। আবেদনকারীদের মুখোমুখি হতে হবে যাচাই-বাছাইয়ের।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিত কার্যক্রম শুরু হবে এবং পুনঃমূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল ধরে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেইট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, তারা ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের অধীনে ভিসা আবেদনকারীদেরকে সমালোচনার ভিত্তিতে বাতিল করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক বিনিময়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে বহু মানুষ মার্কিন ভিসা নিয়ে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কাজে যান। এখন তাদের যাত্রা স্থগিত হবে এবং আবেদনকারীদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

সিএনএন লিখেছে, নতুন সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করছে। তবে এই স্থগিতাদেশ অস্থায়ী হিসেবে কেউ থাকলে, পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসাসহ অভিবাসী ছাড়া বাকিদের জন্য নয়।

মার্কিন ভিসা আবেদনের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় এসব বিষয় নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, অভিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা হওয়া যাবে না।

ভিসা প্রসেসিং স্থগিতের নির্দেশ পাওয়া দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে মন্তব্য করে এসব দেশের অভিবাসীরা যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ–সুবিধা ব্যবহার না করে বা জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর সমস্ত নীতি, প্রবিধান এবং নির্দেশিকা সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করছে বলে বার্তায় জানানো হয়।

কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে মার্কিন ভিসা প্রসেসিং সেন্টার। ওয়েবসাইটে দেওয়া ওই বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওইসব দেশের নাগরিকদের কোনো অভিবাসী ভিসা দেওয়া হবে না। তবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশের বৈধ পাসপোর্টধারীরা আবেদন করতে পারবেন। তারা কোনো সমস্যায় পড়বেন না।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে দেখব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সাহায্যের ওপর নির্ভর হতে পারেন কি না। যারা হবেন বলে মনে হবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।’

বছরের প্রথম দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এক লক্ষাধিক ভিসা বাতিল করেছিল। নতুন স্থগিতাদেশে কেবলমাত্র ‘সীমিত ক্ষেত্রে’ ছাড় দেওয়া হবে, যেখানে আবেদনকারী পাবলিক চার্জের শর্ত পুরোপুরিভাবে পাস করবে।

২০০২ সালের বিধি অনুযায়ী কনস্যুলাররা পাবলিক চার্জের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে বিস্তৃত করেছিল, পরে বাইডেন প্রশাসন সেই পরিবর্তন কিছুটা বাতিল করেছিল। এবার পুনঃমূল্যায়নের জন্য ৭৫ দেশের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।

স্থগিতাদেশে থাকা দেশগুলো–আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভূটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবন্ধের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

মার্কিন-মধ্যস্থতায় গাজায় হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবন্ধ পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গতকাল (বুধবার, ১৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় সব সেনা সরিয়ে নেয়া হবে এবং পুনর্গঠন এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া হামাস তার বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যার মধ্যে জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়াও অন্তর্ভুক্ত। শর্ত পূরণ না করলে গুরুতর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।

এর আগে, ১০ অক্টোবর প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় এখন ৪শ’র বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিয়েছে।

বিকল্প নেতৃত্বের অভাব: ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা

ইরানে বর্তমানে এমন কোনো ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দল নেই, যারা খামেনিতন্ত্রের বিকল্প সরকার গঠনে প্রস্তত। কারণ দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য ভিন্ন। আবার কারও সুনির্দিষ্ট নেতা আছে, কারও নেই। এক্ষেত্রে সহিংস বিক্ষোভ ও মার্কিন হস্তক্ষেপে বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন হলে ইরান বড় ধরনে সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির কথা সামনে আসলেও তার নেতৃত্ব মানার মতো কোনো আভাসও মিলছে না।

অর্থনৈতিক সংকটে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে যা রূপ নেয় ইসলামী প্রজাতন্ত্র বা খামেনিতন্ত্র উৎখাতের আন্দোলনে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এখন সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি শিয়াপন্থী ধর্মীয় নেতাদের শাসন ব্যবস্থা। আরও বেশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন ব্যবস্থার যদি ইতি ঘটে তাহলে শক্ত হাতে ইরানের হাল কে বা কারা ধরবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত রাজা শাহ মোহাম্মদের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি প্রবাসী ইরানীদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তাকে নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত যুবরাজের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ইরান ন্যাশনাল কাউন্সিলও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

চাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক ড. সানাম ভাকিল বলেন, আমার মনে হয় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের উৎখাতে ইরানিরা অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু পরবর্তীতে কী হবে বা পরবর্তীতে কে দেশের হাল ধরবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি এখনও অতীতের স্মৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু ইরানের অভ্যন্তরের মানুষের জন্য তিনি হয়তো প্রথম পছন্দ নন।

১৯৭০-এর দশকে শাহ সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বামপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে ইরানের মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন সক্রিয় থাকলেও বর্তমান আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। এমনকি ১৯৮০ দশকের যুদ্ধে ইরাকের পক্ষ নেয়ায় অনেক ইরানি তাদের ঘৃণা করেন। এছাড়া ২০০২ সালে এরাই প্রথম ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির তথ্যও ফাঁস করেছিলো। দলটির নেতা মাসুদ রাজাভি’র স্ত্রী মরিয়ম রাজাভি বর্তমানে দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্ধ আনুগত্যের নীতি ও অনুসারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগেও দলটি পিছিয়ে আছে।

শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে সুন্নিপন্থী কুর্দি ও বেলুচ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই বর্তমান সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। যার কারণে ইরানে সরকার বিরোধী যেকোনো আন্দোলন হলেই কুর্দি ও বেলুচ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি উত্তাল থাকে। তবে কোনও অঞ্চলেই এমন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেখা যায়নি, যা তেহরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার জন্য স্পষ্ট হুমকি।

২০০৯ সালের জুনে ইরানের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ ছিল মূলত পেশাজীবী, নারী অধিকার-কর্মী ও সুশীল সমাজের একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর-হোসেইন মুসাভি এই আন্দোলনের প্রতীকী নেতা ছিলেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। আরেক সংস্কারপন্থী নেতা মেহেদি কারুবিও গৃহবন্দী ছিলেন গত বছরের মার্চ পর্যন্ত। বর্তমান বিক্ষোভে এই দুই নেতারও তেমন কোনো প্রভাব নেই।

বিক্ষোভকারীরা এখন নিজেদের কোনো একক নেতার অধীনে সংগঠিত না করে নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের এই ধরণকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের জেনজি বিক্ষোভের সঙ্গেও মিল দেখছেন বিশ্লেষকরা।

×