শিরোনাম:

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির পথে

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির পথে

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতির পথে। গরিবের প্রোটিন খ্যাত ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরিবের মাছ পাঙাশের কেজি ২২০ এবং গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ২০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা এবং ধুন্দল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সাজনা কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনেপাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে সবজি, সিম কেজিতে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, ফুলকপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৬০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩২০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২শ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১শ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মুগদা ছোট বাজারের মাংস বিতানের মোহাম্মদ হানিফ জানান, তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আর কমবে না। সামনে কোরবানির ঈদ। এখন থেকে ব্যাপারীরা কোরবানি ধরেই গরুর দাম ঠিক করছে।

মুরগির দোকানে ব্রয়লারের দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদিজা নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, “কয়দিন আগে ১৮০ টাকা করে কিনছি। এখন কয় ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব বাঁচবে কেমনে? শোনেন না, মাইকে শ্রমিকদের কথা কয়। কিন্তু শ্রমিকরা যে কেমনে চলে কেউ কইতে পারবে না।”

বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকা এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো সবজিতে সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তদারকি না বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গণভোটের একটা অংশে প্রতারণা আছে: আইনমন্ত্রী

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির পথে

গণভোটের একটা অংশে প্রতারণা আছে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আজ (শুক্রবার, ১ মে) সকালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মে দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যা যা করার বিএনপি করবে। তবে গণভোটের একটা অংশে প্রতারণা আছে বিএনপি প্রতারণার অংশের সাথে নেই।’

এসময় জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

শৈলকূপা পৌর শ্রমিক দলের আয়োজনে মে দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কিসহ অন্যান্যরা।

সাদিক কায়েম কী ডিএসসিসির মেয়র প্রার্থী হতে পারবেন?

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির পথে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রচার হয়েছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী।

ইসলামী ছাত্রশিবির জানিয়েছে, শিবিরের যে কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে সাদিক কায়েমের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সংবাদ প্রচারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার বাদ জুমা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় একজন দায়িত্বশীলকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার সংবাদ কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ইসলামী ছাত্রশিবিরে যে কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নেওয়ার পর যে কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অতএব, বর্তমান সেশনের কোনো দায়িত্বশীলকে নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এছাড়া জানা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাদিক কায়েম তার জাতীয় পরিচয়পত্র খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে ইতোমধ্যে ঢাকার ভোটার হয়েছেন। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি, তবে দলীয় কর্মকাণ্ড ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

‘জিয়াউর রহমানের ত্রিপক্ষীয় শ্রম-নীতি শ্রম কল্যাণের ভিত্তি মজবুত করেছে’

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির পথে

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ত্রিপক্ষীয় শ্রম-নীতি ও সংস্কার শ্রম কল্যাণের ভিত মজবুত করেছে বলেছে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জিয়াউর রহমানের যে কর্মপরিকল্পনা তাতে পূর্ণতা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার (০১ মে) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার, শ্রম খাতের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, ১৮৯৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তিনি সেই আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নির্যাতিত, আহত ও শহিদ শ্রমিকদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। রাষ্ট্রপতির মতে, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম এবং তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্প-কারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমান সরকারের শ্রমবান্ধব নীতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের সম্পর্ক শিল্প উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আইএলও-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল স্বাক্ষর করেছে।

নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি সমকাজে সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি মিরপুরের রূপনগরে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ শ্রমিকের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, শ্রমিক, মালিক, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। মহান মে দিবসের চেতনা ধারণ করে তিনি সবাইকে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

×