শিরোনাম:

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

জুলাইয়ের আগে হাম কমার কোনো আশা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার পর অন্তত এক মাস লাগতে পারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে। আবার সরকার এক ডোজ টিকা দেয়ায় পুরো টিকা কার্যক্রমের সফলতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে গতকাল (সোমবার, ৪ মে) পর্যন্ত গেলো এক সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের, আক্রান্তের সংখ্যাও ১০ হাজারের বেশি।

হামের ভ্যাকসিন নেয়ার এ ভিড় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক নং ওয়ার্ডের একটি টিকা কেন্দ্রের।

চার সিটিতে টিকাদান কর্মসূটি শুরুর ২০ দিন পরেও টিকা নিতে আসছেন অভিভাবকরা। সারাদেশে হাম সংক্রমণের মধ্যে টিকাতেই আশা দেখছেন তারা।

অভিভাবকরা জানান, সরকারিভাবে দেয়ায় তারা এটাকে নিরাপদ মনে করছেন। এছাড়া সচেতনতা থেকেই বাচ্চাদের নিয়ে টিকা দেয়াতে এসেছেন বলেও জানান তারা।

৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৩ ধাপের টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশু। এখন পর্যন্ত সার্বিকভাবে ৮১ শতাংশ শিশু টিকা পেয়েছে।

এদিকে টিকা দেয়ার শুরুর এক মাস হতে চললেও কমছে না হামের প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে সোমবার থেকে আগের সাত দিনে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি শিশু। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। রোববার পর্যন্ত হামে মৃত্যু ২৯৪ জন।

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জুলাইয়ের আগে হাম কমার কোন আশা দেখছেন না। তারা বলছে, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পর অন্তত এক মাস লাগতে পারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে।

বিএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফউল্লাহ মুনশি বলেন, ‘যারা শেষে ভ্যাকসিন দেবে, তার কিন্তু প্রায় ২০ থেকে ৩০ দিন সময় লাগবে ইমিউনিটি পেতে। যখন সেটা তৈরি হবে তখন কিন্তু আমরা দেখতে পারবো যে, আস্তে আস্তে কেস কমে আসবে। অন্তত জুন মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’

সরকারের টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এক ডোজ টিকা। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে দুই ডোজ টিকার দরকার হয়। এ অবস্থায় পুরো টিকা কার্যক্রমের সফলতা নিয়েও শঙ্কা আছে বিশেষজ্ঞদের।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও ও হাম-রুবেলা ল্যাবলেটরির ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘১০০টা বাচ্চার মধ্যে যদি ৯৫টা বাচ্চাকে আমরা দুই ডোজ এনশিওর করতে পারি মেজাস ভ্যাকসিনের, তখন সেটা ওই বাচ্চাদের ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেবে। এটা যদি না করতে পারি, ওই যে ৫ শতাংশ যেটা দিতে পারলাম না, তাদের মধ্যে একজনও যদি আক্রান্ত হয়, সেখান থেকেই ছড়াবে।’

একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিহীনতা, মায়েদের থেকে হামের ইমিউনিটি না পাওয়াসহ নানা কারণে বাড়ছে এ শঙ্কা।

অধ্যাপক ডা. সাইফউল্লাহ মুনশি বলেন, ‘মেজাসটা চারদিকে ছড়াচ্ছে না, সবাই তো ইমিউন্ড আমরা, প্রায় ৯৫ শতাংশ ইমিউন্ড। সেক্ষেত্রে ওই মায়েরা কিন্তু কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে চলাফেরা করছে। তাদের গভাবস্থায়ও কিন্তু ইমিউনিটি কম।’

ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘একটা বাচ্চা যদি আক্রান্ত হয়, সে ওই এলাকার তার আশপাশের ১৮ থেকে ২০ জন বাচ্চাকে সংক্রমিত করতে পারে। এভাবে ভাইরাসটা ছড়াচ্ছে। প্রত্যেকটা মা যেন গর্ভবতী হওয়ার আগে জেনে নেয় যে, সে মেজাস-রুবেলা টিকা পেয়েছে কি না। যদি না পেয়ে থাকে ছোটবেলায়, সে যেন দুটা ভ্যাকসিন নিয়ে নেয়।’

এদিকে থেমে থেমে বৃষ্টি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। হাম সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

আমিরাতে হামলা ইরান থেকে চালানো হয়নি: সামরিক সূত্রের দাবি

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা ইরানের ছিল না বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেওয়া কিছু বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলাগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে চালানো হয়নি কিংবা এগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়নি।

তবে এটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই জলপথ দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন বা তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্ত কোনো জাহাজকে অবাধে চলাচল করতে দেবে না।

এদিকে সোমবার (০৪ মে) বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশজুড়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে।

একটি ইরানি ড্রোন হামলায় একটি পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় আগুন লাগে। ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল ডিফেন্সের দল মোতায়েন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার রাশিয়ার তেল জাপানে পৌঁছেছে : গণমাধ্যম

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করেছে জাপান। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

টিভি টোকিও ও আসাহি শিম্বুনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, পাইকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইয়ো অয়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে- রাশিয়ার শাখালিন-২ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল একটি ট্যাংকারে করে সোমবার জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের ইমাবারি উপকূলে পৌঁছেছে।

জাপান নিজেদের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা শুরু করে দেশটি।

রাশিয়ার শাখালিন অঞ্চলের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তাইয়ো অয়েল এই তেল এনেছে।

এই অপরিশোধিত তেল একটি শোধনাগারে পাঠানো হবে। সেখানে এটি থেকে গ্যাসোলিন বা পেট্রোল, ন্যাপথা (যা প্লাস্টিক, রাসায়নিক তন্তু ও রংসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হবে।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাইয়ো অয়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘ব্যাপক প্রভাব’ ফেলছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জরুরি পদক্ষেপ নেবে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে।

গত সপ্তাহে তাকাইচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আমদানি বাড়ানোর ফলে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত জাপানের ন্যাপথাভিত্তিক রাসায়নিক পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ প্রভাব’ অচিরেই কমবে: ইরানের স্পিকার

হাম পরিস্থিতি: সহজে কমবে না প্রভাব, টিকার সফলতা নিয়ে শঙ্কা

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং অবরোধ আরোপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে “বিপন্ন” করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন সমীকরণ সুসংহত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে এই বর্তমান পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য অসহনীয়; অথচ আমরা তো এখনো শুরুই করিনি।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের সমস্ত বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে একটি নৌ মিশনের ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, এই মিশন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

×