শিরোনাম:

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’ হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে এই হুমকি প্রদান করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর পরিমাণে উন্নত মানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে।

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সেরা সব যুদ্ধ সরঞ্জামে পরিপূর্ণ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে তারা এসব সামরিক সরঞ্জামের সবকিছুই ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

কঠোর সামরিক হুমকির পাশাপাশি শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্বাস করেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরান আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি নমনীয় হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার রাশিয়ার তেল জাপানে পৌঁছেছে : গণমাধ্যম

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করেছে জাপান। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

টিভি টোকিও ও আসাহি শিম্বুনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, পাইকারি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইয়ো অয়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে- রাশিয়ার শাখালিন-২ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল একটি ট্যাংকারে করে সোমবার জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের ইমাবারি উপকূলে পৌঁছেছে।

জাপান নিজেদের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা শুরু করে দেশটি।

রাশিয়ার শাখালিন অঞ্চলের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তাইয়ো অয়েল এই তেল এনেছে।

এই অপরিশোধিত তেল একটি শোধনাগারে পাঠানো হবে। সেখানে এটি থেকে গ্যাসোলিন বা পেট্রোল, ন্যাপথা (যা প্লাস্টিক, রাসায়নিক তন্তু ও রংসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হবে।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাইয়ো অয়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক শেষে বলেন, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ সংকট এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘ব্যাপক প্রভাব’ ফেলছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জরুরি পদক্ষেপ নেবে।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে গেছে।

গত সপ্তাহে তাকাইচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আমদানি বাড়ানোর ফলে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত জাপানের ন্যাপথাভিত্তিক রাসায়নিক পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ প্রভাব’ অচিরেই কমবে: ইরানের স্পিকার

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং অবরোধ আরোপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে “বিপন্ন” করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন সমীকরণ সুসংহত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা খুব ভালো করেই জানি যে এই বর্তমান পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য অসহনীয়; অথচ আমরা তো এখনো শুরুই করিনি।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের সমস্ত বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে একটি নৌ মিশনের ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, এই মিশন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ: লাভবান হচ্ছে চীন: সিআইএ’র সাবেক বিশ্লেষক

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্প

কোনো সমাধান ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় চীন ব্যাপকভাবে লাভবান হতে যাচ্ছে এবং বেইজিং এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী খেলায় মনোনিবেশ করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক জন নিক্সন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

নিক্সন বলেন, ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ করার সক্ষমতা এবং তাদের আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে চীন অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। তবে তিনি মনে করেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চীন এখন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে।

নিক্সন বলেন, চীনের ভবিষ্যতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা (চীন) নিজেদের একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে।

তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ ডেকে আনার বিষয়ে চীনের কোনো আগ্রহ নেই। এর পরিবর্তে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করতে পছন্দ করে, আর এ কারণেই এই অঞ্চলে চীনের এতটা আকর্ষণ।

সাবেক এই মার্কিন বিশ্লেষক ব্যাখ্যা করে বলেন, চীনকে অত্যন্ত বাণিজ্যিক বা লেনদেনমুখী হিসেবে দেখা হয়, যা তাদের একটি নেতিবাচক দিক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের জবরদস্তিমূলক বা আনাড়িপনা (হাম-হ্যান্ডেড) অব্যাহত রাখে, তবে একসময় চীনা বার্তাগুলো এখানকার দেশগুলোর কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

নিক্সন আরও বলেন, চীন এই অঞ্চলের জ্বালানি সম্পদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্ব ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিকারকদের জন্য চীন একটি বড় গ্রাহক হিসেবেই থেকে যাবে। তাদের এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: আল-জাজিরা

×