অব্যাহত থাকবে শৈত্যপ্রবাহ,৯ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা
হিমশীতল বাতাস আর কুয়াশা সঙ্গী করে দাপটে রয়েছে শীত। ইতোমধ্যে ৯ ডিগ্রিতে নেমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। দেশজুড়ে শীতের প্রকোপ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়ে সারাদেশের ৭টি জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। সংস্থাটি বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের উপপরিচালক (নৌ-নিট্রা) বাবু লাল বৈদ্য।
তিনি বলেন, নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে গেছে। এই কারণে আজ (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশালসহ সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। লঞ্চগুলো চলার পথে যে যেখানে অবস্থান করছে, ওই স্থানে নদীর পাড়ে লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে ফের চলাচল স্বাভাবিক হবে।
মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ দিনেও আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানী শহর ঢাকাতেও। পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহে আজ শনিবার ঘন কুয়াশার চাদরে আবৃত রয়েছে রাজধানী শহর। তীব্র শীত ও কুয়াশায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। বিশেষ করে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর ছিন্নমূল মানুষেরা।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। সেই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।
বর্তমানে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামী রোববার ও সোমবার (২৮-২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি এ দু’দিনও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে রোববার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সোমবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে মঙ্গল ও বুধবার (৩০-৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে এই দু’দিনও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে মঙ্গলবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া বুধবার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশাও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। এতে করে খেটে খাওয়া দিনমজুরা পড়েছেন বিপাকে। দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালানি চলছে যানবাহন। খড়কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারনের চেষ্টা করছেন মানুষ। ঠান্ডাজনিত রোগে বেশির ভাগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। অনেকেই গবাদিপশু নিয়ে আছে বিপদে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষি শ্রমিক রিকশা ও ভ্যান চালকদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় অনেকই পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন যাপন করছেন।
কুড়িগ্রামে সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়েছে। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা জরুরি।
শীতের এই প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ— যাদের জীবনে প্রতিটি দিনই সংগ্রামের, আর এই শীতে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন ইতোমধ্যে নয় উপজেলায় ৫৪ লাখ টাকার ২২ হাজার কম্বল কিনে শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের মার্কিন ভিসা বন্ধে কী প্রভাব পড়বে








