চেক বাউন্স মামলায় তিহার জেলে অভিনেতা রাজপাল যাদব
দিল্লি হাইকোর্ট চেক-বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালে, গতকাল বৃহস্পতিবার তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব।
জেল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ, তিনি তিহার জেলে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর জেল প্রশাসন নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এর আগের দিন, বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবের আবেদন খারিজ করে দেয়, যেখানে তিনি আত্মসমর্পণের জন্য, নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তাকে আর কোনও অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেন, অভিনেতার পক্ষ থেকে এমন কোনও যুক্তিসংগত কারণ দেখানো হয়নি, যার ভিত্তিতে আদালত সময়সীমা বাড়াতে পারে।
বুধবার বিকেলেই রাজপাল যাদবের আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিনেতা ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ টাকার বন্দোবস্ত করেছেন এবং সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তবে আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেনি। এবং ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ বহাল রেখেছে।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৮ সালের এপ্রিলে, যখন একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চেক-বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদব এবং তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে ২০১৯ সালে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তাঁরা দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করেন, যা পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টে ওঠে। ২০২৪ সালের জুন মাসে, হাইকোর্ট যাদবের দোষী সাব্যস্ততা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে। তবে সেই সঙ্গে শর্ত আরোপ করা হয় যে, তিনি অভিযোগকারী সংস্থার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ মীমাংসার জন্য আন্তরিক ও বাস্তব পদক্ষেপ নেবেন।
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল যাদবকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। সেই সময় তাঁর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, এই আর্থিক লেনদেনটি একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য নেওয়া, ঋণের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যা বক্স অফিসে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায়, অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি।
২ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশে, হাইকোর্ট কড়া ভাষায় মন্তব্য করে জানায়, যাদব বারবার আদালতের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন এবং অভিযোগকারী সংস্থা মেসার্স মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডকে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতের মতে, এই আচরণ আদালত অবমাননার শামিল।
আদালত আরও জানায়, অভিনেতার বিরুদ্ধে থাকা সাতটি মামলার প্রতিটিতে তাঁকে ১.৩৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করতে হবে। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ইতিমধ্যেই যে অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তা অভিযোগকারীর অনুকূলে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ৭৫ লক্ষ টাকার দুটি ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং এখনও প্রায় ৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
এই সমস্ত প্রেক্ষিতেই দিল্লি হাইকোর্ট আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়াতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন রাজপাল যাদব।

খামেনিকে হত্যা ‘নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের’ ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’: পুতিন













