খামেনি হত্যাকাণ্ডের আগমুহূর্তে কী ঘটেছিল
মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় খামেনি নিহত হন।
তেহরানের কেন্দ্রস্থলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়–কমপ্লেক্সে শনিবার ভোররাতে কী ঘটেছিল-তা নিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনেয়ি তার দাপ্তরিক কক্ষে নীতিগত ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কিছু নথি পর্যালোচনা করছিলেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি ছোট দলও কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিল। ভোরের দিকে প্রাসাদ এলাকায় স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয় বজায় ছিল এবং বাইরের চলাচল ছিল সীমিত।হামলার ঠিক আগে রাজধানী তেহরানের আকাশে অস্বাভাবিক বিকট শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক।
মার্কিন সূত্র অনুযায়ী, খামেনি নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর-এর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনই ইসরায়েল হামলা চালায়।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত আলী শামখানির ওপর নজর রাখছিল। শনিবার তিনি খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে দুই দেশ যৌথভাবে আক্রমণ চালায়, যার ফলে ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, খামেনির মরদেহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে দেখানো হয়েছিল।
খামেনির হত্যার দাবি প্রথম করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, তিনি জানান, “আমরা আজ একটি অভিযানে খামেনিকে হত্যা করেছি।” এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনিকে হত্যার দাবিতে এগিয়ে আসেন।
মার্কিন মিডিয়া অনুযায়ী, ট্রাম্পকে প্রথমে খামেনির মৃতদেহ দেখানো হয়, এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। অভিযানটি তেহরানে নিরাপদ স্থানে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল আলী শামখানির ওপর হামলা চালায়। ইসরায়েল তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ঘোষণা করলেও এক মাস পর শামখানিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। জানা গেছে, শামখানি ছিলেন ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং খামেনির মধ্যে মূল সংযোগকারী। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ইরানি সেনাবাহিনী খামেনিকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ইরান আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমেরিকা খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ পাবে। আমরা চুপ করে বসে থাকব না।” রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাই- নাতি ও নাতনিও নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। খামেনেয়ির হত্যাকাণ্ড দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খামেনিকে হত্যা ‘নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের’ ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’: পুতিন










