কেমন ছিল খামেনেয়ির জীবন?
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা থাকার পরে মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলায় খামেনেইর মৃত্যু ঘটেছে। এই আবহে বিপ্লবের পরে এই প্রথম সংকটের মুখে ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। এই খামেনেই ছিলেন ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা। অবশ্য সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টও থেকেছেন। এছাড়া আরও অনেক সরকারি পদে তিনি ছিলেন।
১৯৩৯ সালে জন্ম খামেনেই ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন। মাশহাদের একটি সেমিনারি স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফে উচ্চতর শিয়া আইনশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং আয়াতোল্লা খোমেনেইর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীবিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি পাশ্চাত্য-বিরোধী অবস্থানে অটল ছিলেন। এরই সঙ্গে ইরানে কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের পক্ষে ছিলেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন খামেনেই। ধর্ম প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকা খামেনেই তরুণ বয়স থেকে রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাজা পহলভির সময় তাঁকে তিন বছরের জন্য দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। ইরানি বিপ্লবের আগে ৬ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন খামেনেই। এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পরে একধিক পদ সামলেছিলেন খামেনেই। তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। আবার তেহরানের জুমার নমাজের প্রধানও হয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একটি টেপ রেকর্ডারে বোমা লুকিয়ে তাঁকে মারার চেষ্টা হয়েছিল। সেই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। সেই হামলার পর থেকেই খামেনেইর ডান হাত অকেজো হয়ে পড়ে। তিনি বাঁহাত দিয়ে হাত মেলাতেন।
🎥 خروش زنجانیها درپی شهادت حضرت آیتالله خامنهای https://t.co/wzZh5pHCpY pic.twitter.com/I1dwGwWuAk
— خبرگزاری فارس (@FarsNews_Agency) March 1, 2026
১৯৮১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন খামেনেই। এরপর ১৯৮৫ সালে ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ফের প্রেসিডেন্ট হন খামেনেই। এরপরে রুহোল্লাহ খোমেনেইয়ের মৃত্যুর পরে আলি খামেনেই ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন। এই পদে থাকাকালীন বহুবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৯৯ সালে ইরানের পড়ুয়ারা প্রতিবাদে নেমেছিলেন, ২০০৯ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে খামেনেইর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, এরপর ২০১১-১২, ২০১৭-১৮ সালেও ইরান জুড়ে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল, ২০১৮-১৯ সালে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ সাধারণ ধর্মঘটে পরিণত হয়েছিল, ২০১৯-২০ সালে ফের খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে, এরপর ২০২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্য়ুর পরে ইরান জুড়ে খামেনেই বিরোধী প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের শুরুর মাসগুলিতে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল ইরান। এই সবের মাঝেই ইজরায়েল এবং আমেরিকার হামলায় খতম হলেন খামেনেই।

খামেনিকে হত্যা ‘নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের’ ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’: পুতিন










