শিরোনাম:

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত পূরণের জন্য নয়।

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ-এর শর্তের সাথে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আইএমএফ-এর মিটিংয়ে যাওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকাতে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশের জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাম না বাড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মসূচি সচল রাখতে অত্যন্ত নগণ্য হারে এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।’

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ ও সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্ত মানা হবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আইএমএফ-এর এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে অনেক শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই জনগণের ওপর বা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেব না।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্কেটের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের ওপর এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরা একমত এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। শীঘ্রই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও জানান তিনি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় অশোভন অঙ্গভঙ্গি, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিবাদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের বিরুদ্ধে অশোভন অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

এ ছাড়া সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে সিরিয়ালিটি বা পর্যায়ক্রম বজায় রাখার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা এ বিষয়ে কথা বলেন।

সংসদে অশোভন আচরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সম্মানিত কিছু সদস্যের অশালীন অঙ্গভঙ্গি আমার বিবেকে আঘাত করেছে। আমি চার-পাঁচবার নির্বাচিত হওয়া সদস্যদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি। আমরা প্রথম দিনই বলেছিলাম, এখানে একটি ভালো সংস্কৃতির চর্চা হোক। কিন্তু বারবার বলার পরও এমন আচরণ দুঃখজনক এবং আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে কথা বলার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য অনুযায়ী স্পিকার সবাইকে সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার এবং কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আলোচনার পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

এ সময় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন সদস্যদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, সংসদে ২২০ জন নতুন সদস্য আছেন। তারা তাদের নির্বাচনি এলাকা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চান। কিন্তু অনেকেই বারবার সুযোগ পেলেও, কেউ কেউ একবারও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না। যিনি নোটিশ আগে দেবেন, তারটা যেন সিরিয়াল অনুযায়ী আগে আসে।

দেশে এক যুগের গ্যাস মজুত আছে: জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে দেশের বর্তমান প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত দিয়ে আগামী প্রায় ১২ বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুত প্রায় ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২২.১১ টিসিএফ গ্যাস ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে এবং বর্তমানে অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৬৩ টিসিএফ।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বর্তমান মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসবে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার পরিকল্পনায় মোট ১০০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার মধ্যে ২৬টি কূপের খনন ও সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বাপেক্স এবং অন্যান্য সংস্থা ভোলা, জামালপুর ও হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিসমিক জরিপ জোরদার করেছে, যাতে নতুন জ্বালানি সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এনসিপিতে যোগ দিলেন আপ বাংলাদেশসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিলেন আপ বাংলাদেশসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৭ নেতাকর্মী। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে এনসিপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেতারা দলটিতে যোগদান করেন।

এনসিপিতে যোগ দেওয়া কয়েকজন হলেন- আপ বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্মের প্রধান উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও দফতর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।

নতুন রাজনৈতিক দলটিতে আরও যোগ দিয়েছেন, শাহরিজ সুলতানা ইরা, আয়মান রাহাত, হাসান তানভীর, ওয়াহিদ আলম, মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন, সাজ্জাদ সাব্বির, এস এম সুইটসহ আরও অনেকে।

এনসিপির আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বিকেলে তাদের নাম লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কে আগে কোন দল বা সংগঠন করে এসেছে দেখার বিষয় না। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রঅধিকার পরিষদ ইভেন ছাত্রলীগ হোক; আজকে থেকে যে এনসিপিতে এসেছে, সে এনসিপির হয়ে কাজ করবে। তবে ফ্যাসিজম, গণহত্যা, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ-এইসব ব্যক্তিরা এনসিপিতে আসতে পারবে না, থাকতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, যে দায় ও দরদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেই রাজনীতিকে ধারণা করে আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে আগাতে চাই।

×