খুলে দেওয়া হলো ফারাক্কার সব গেট: চাঁপাই ও রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে স্থানীয় ফসলি জমি ও বসতি হুমকির মুখে পড়েছে।
পানি বাড়লেও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) জানিয়েছে যে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটের সবকটিই খুলে দেওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও আশেপাশের অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। উজানের অতিরিক্ত পানি দ্রুত অপসারণের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।
ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটের সবগুলোই বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে।
দেশের উত্তরের দ্ইু জেলা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চল তলিয়ে গেছে। রাজশাহীতে কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে রাখায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে পানি বেড়ে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর রাজশাহী ব্যুরো ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে । আরও কয়েক দিন পানি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তারা জানিয়েছে, রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। গতকাল শুক্রবার বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৮২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় পদ্মার পানি।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পানি বাড়লেও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি নেই। তবে সতর্ক অবস্থানে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠছে।
নদীর পানি বর্তমান হারে বাড়তে থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আরও চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে পদ্মার তীরবর্তী বিভিন্ন চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই নদীর পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা ও চারঘাটের পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জসহ নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল রয়েছে ঝুঁকিতে। এসব এলাকার অনেক মানুষ কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও নদীনির্ভর বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। পানি বাড়তে থাকলে কৃষিজমি ও চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়তে পারেন তারা।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চর খিদিরপুর ও মিডল চরে পানি ওঠায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে।

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী













