চট্টগ্রামে আন্তঃদেশীয় সাইবার আস্তানা: গ্রেফতার ৬৩
আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেফতারের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার স্ক্যামিং চক্রের ৬৩ জন বিদেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং খুলশী থানা-পুলিশ যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের পর ১১ সেপ্টেম্বর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দামপাড়া পুলিশ লাইনসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির মূল হোতা, বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রমের পরিধি এবং স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জব্দ করা ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের তথ্য বের করার চেষ্টা করবে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপনসংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টারটেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ভিসার মেয়াদ ছিল কিনা— তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কারণ গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, স্থানীয় কোনো সংঘবদ্ধ চক্র তাদের বাড়ি ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে -অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, তাদের পাসপোর্ট একজন বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই ব্যক্তির সহযোগিতাতেই তারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে বিদেশিরা বৈধ নাকি অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
দেড় মাস ধরে চলছিল কার্যক্রম : পুলিশ জানায়, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে দুবাইপ্রবাসী মামুন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে ওই চক্রটি অবস্থান করছিল। সেখানে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন করে তারা সাইবার অপরাধের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে এবং পরে অনলাইন জুয়া ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করছিল।
তিনি বলেন, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হওয়ায় তারা সেসব দেশে কার্যক্রম চালাতে না পেরে বাংলাদেশকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নেয়। চট্টগ্রামে তারা প্রতারণার কার্যক্রম শুরু করেছিল মাত্র।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযানে জব্দ করা কম্পিউটার ও ল্যাপটপের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর চক্রটি কার কার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং কী ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী













