৩৩ বছর পর জেলের অন্ধকার জীবন নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জয় দত্ত
“কিছু কাহিনী শেষ হয় না… সেগুলো নতুন করে শুরু হয়।” সঞ্জয় দত্তের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই বার্তাই বলিউডের— সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। শুক্রবার মুম্বইয়ে ছবির ফার্স্ট লুক এবং পোস্টার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সঞ্জয় জানালেন এক অজানা ইতিহাস। পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের উপস্থিতিতেই অভিনেতা খোলসা করলেন, এই সিক্যুয়েলের বীজ বপন করা হয়েছিল জেলের কুঠুরিতে।
১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় সাজা খাটার সময় সঞ্জয় দত্তের মাথায় ‘খলনায়ক’-এর ফেরার ভাবনাটি আসে। অভিনেতা জানান, “জেলে থাকার সময় আমি সহ-কয়েদিদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তারা কি এই ছবির সিক্যুয়েল দেখতে আগ্রহী? প্রায় ৪,০০০ কয়েদি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন। আমি তাঁদের প্রত্যেককে অনুরোধ করি এক পাতা করে গল্প লিখতে। সেই ৪,০০০ পাতার ভাবনা পড়তে আমার বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল।” পরে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি সেই খসড়া সুভাষ ঘাইয়ের কাছে নিয়ে যান এবং ‘শো-ম্যান’ ছবিটি তৈরির সবুজ সংকেত দেন।
সঞ্জয় দত্তের মতে, সুভাষ ঘাই ছাড়া ‘খলনায়ক’-এর সফর কল্পনা করা অসম্ভব। তিনি পরিচালককে ‘লিভ ইন লিজেন্ড’ বলে সম্বোধন করেন। অন্যদিকে, সুভাষ ঘাই জানান, সঞ্জয় এবং তাঁর স্ত্রী মান্যতার অদম্য ইচ্ছা ও প্যাশনের ফসল হল, এই নতুন প্রজেক্ট। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “এই ছবি আগেরটির চেয়েও বড় এবং ভালো হবে।”
https://www.instagram.com/duttsanjay/reel/DXhJ7D3sAeW/
২৪ এপ্রিল ছবির প্রথম ঝলক সামনে আসতেই উত্তাল নেটপাড়া। আবহ সংগীতে যখন ‘খলনায়ক হুঁ ম্যায়’ ট্র্যাকটি বেজে ওঠে, তখন স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন দর্শকরা। প্রকাশিত দুটি পোস্টারের একটিতে সঞ্জয়কে দেখা যাচ্ছে গম্ভীর মুখে ধূমপান করতে, অন্যটিতে তাঁর সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি। পোস্টারের ক্যাপশনে লেখা— “প্রতিটি কাহিনীর একটা সময় থাকে, আর সেই সময়টা এবার চলে এসেছে।”
১৯৯৩ সালে যখন সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘খলনায়ক’ মুক্তি পায়, তখন তা বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছিল। বাল্লু চরিত্রে সঞ্জয় দত্তের সেই ‘অ্যান্টি-হিরো’ ইমেজ আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রে মাইলফলক। মাধুরী দীক্ষিত এবং জ্যাকি শ্রফ অভিনীত সেই ছবি নায়ক-খলনায়কের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। সিক্যুয়েলের কাস্টিং বা মুক্তির তারিখ এখনও গোপন রাখা হলেও, বাল্লুর প্রত্যাবর্তনের খবরটুকুই আপাতত সিনেপ্রেমীদের জন্য বড় পাওনা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ৩০০ যুগলের ধুমধামে বিয়ে


















