শিরোনাম:

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন

দেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার মেজর হাফিজের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অধিবেশনে জ্বালানি খাতে চলমান সংকট, সরবরাহ ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা শেষে এ বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংসদ সূত্র জানায়, কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান প্রস্তাব করা যায়। কমিটি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, আমদানি নির্ভরতা কমানোর উপায় এবং বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, সংসদ সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে।

এফএ কাপের ফাইনালে চেলসি

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন

একের পর এক হারে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শেষ পর্যন্ত কোচের বিদায়—সবকিছু মিলিয়ে তপ্ত রোদে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির খুব প্রয়োজন ছিল চেলসির। অবশেষে সংকটের কালো মেঘ সরিয়ে যেন একটুখানি সোনালি রোদের দেখা পেল ‘ব্লুজরা’। চরম এক অস্থির সময়ে ঘাম ঝরানো এক জয়ে এফএ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করল চেলসি।

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমি ফাইনালে আজ লিডস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটলো চেলসি। ক্লাবটির জয়ে নায়ক এনজো ফার্নান্দেস। আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডারের একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।

আগামী ১৬ মে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে চেলসি। দ্বিতীয় স্তরের দল সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে পেপ গার্দিওলার দল। আটবারের এফএ কাপ জয়ী চেলসি এই নিয়ে ১৭ বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল। ২০২২ সালে লিভারপুলের কাছে হারের পর এটাই তাদের প্রথম এফএ কাপ ফাইনাল।

ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলের হারের পর মাত্র চার দিন আগেই ছাঁটাই হন চেলসির কোচ লিয়াম রসেনিয়র। এরমধ্যে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চেলসি তাদের শেষ আট ম্যাচের সাতটিতেই হার দেখে—যার মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে তারা কোনো গোলই করতে পারেনি। তবে এফএ কোয়ার্টার ফাইনালে লিগ ওয়ানের দল পোর্ট ভেলকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চলে গেল চেলসি।

চলতি মৌসুমে চেলসির বিপক্ষে অপরাজিত ছিল লিডস ইউনাইটেড। অ্যালান্ড রোডে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ের পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরতি দেখায় ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। এফএ কাপের সেমিফাইনালেও তাদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়েছে লিডস। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল পজিশনে রাখা চেলসি মোট সাতটি শট নিয়ে দুইটি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে ১০টি শট নেওয়া লিডস গোলমুখে শট রেখেছে তিনটি।

ম্যাচের শুরুটা লিডস বেশ উজ্জ্বলভাবে করে। ৪ মিনিটে আও তানাকার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, দুই মিনিট পরই লিডসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রেন্ডন অ্যারনসন চেলসির গোলকিপার রবার্ত সানচেজকে একা পেয়েও গোলবঞ্চিত হন। দুর্দান্ত এক সেভে তাকে ঠেকিয়ে দেন সানচেজ। বিপরীতে ধীরে ধীরে বলের দখল এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে চেলসি।

প্রথামার্ধে কমবেশি গোলের সুযোগ এসেছিল এনজো ফার্নান্দেজ, পেদ্রো নেতো এবং আলেহান্দ্রো গারনাচোর। জোয়াও পেড্রোর শট পোস্টের একদম কোণায় লাগে। পেড্রোর সেই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলটি পায় চেলসি। নেতোর নিখুঁত এক ক্রস ধরে কাছ থেকে হেডে বল জালে জড়ান ফার্নান্দেস।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতা সূচক গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় লিডস। চেলসির গোলকিপার সানচেজকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় তাদের একের পর এক আক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে। এরমধ্যে চোট পেয়ে চেলসির গোলকিপার সানচেজ খানিকটা সময় চিকিৎসার নেন। তবে লিডস দাবি করে যে, চেলসিকে কৌশলগত বিরতি দেওয়ার জন্য স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক চোটের নাটক করছেন। এ নিয়ে টাচলাইনের ধারে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতিও শুরু হয়।

ম্যাচের শেষ দিকে তানাকা এবং বদলি নামা লিডসের মিডফিল্ডার এন্টন স্ট্যাচ দুজনেই বল জালে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে দাঁতে দাঁত চেপে জাল অক্ষত রাখে চেলসির দৃঢ রক্ষণভাগ। ফলে ১৯৮৭ সালের পর এফএ কাপে লিডসের সেরা যাত্রা সেমিফাইনালেই শেষ হলো। অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহের চরম হতাশায় নিমজ্জিত ব্লুজ সমর্থকদের মনে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির সুবাতাস বইল।

বজ্রপাতে সারাদেশে শিক্ষার্থীসহ ১৪ জনের মৃত্যু

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন

দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।

এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, জামালপুরে দুইজন, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, বগুড়ায় একজন, নাটোরে একজন ও পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়িতে বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জে একই স্থানে মৃত্যু হয় তিনজনের। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। পাশাপাশি বজ্রপাতে একটি ঘোড়া ও একটি গরুও মারা গেছে।

​রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন একজন ও একটি গরু মারা যায়।

সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন, দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), আল মোজাহিদ চৌধুরী ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১২) এবং নবীন হোসেনের ছেলে মিজানুর (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। নিহত রাফি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষক ও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে, তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

একই দিন বিকেল ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় কাটা ধান জড়ো করার সময় বজ্রপাতে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমিতে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জামালপুর
জামালপুর সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে রাজির কুলির নিজ বাড়ি ও শরিফপুর নদী পাড়ের চরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকার হাবিবুর রহমান হাবিবের ছেলে হাসমত আলী হাসু (৫৫) ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব কুলির স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (২২)।

বগুড়া
বগুড়ার গাবতলীতে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

নাটোর
নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।

বজ্রপাতে সারাদেশে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুইজন।

ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরের দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় দুপুরে জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার সকালে ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা-বাগানে পাতা সংগ্রহের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সারওয়ারদ্দী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা হলেন-একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। বর্তমানে তারা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলায় বজ্রাপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

তারা হলেন সুফিয়া আক্তার (২২) ও ফারাহ আক্তার (২২)। তারা উভয়েই রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বজ্রাপাতে আহত দুই শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল

জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন

জাতীয় সংসদে দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল করা হয়েছে, এখন থেকে আর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করতে পারবেন না তারা।

এরআগে, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। রোববার সংসদে কণ্ঠভোটে বিষয়টি পাস হয়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরে বিশেষ সুবিধা কমিয়ে আনা এবং কর ব্যবস্থায় সমতা নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে—সংসদ সদস্যদের পারিতোষিক ও ভাতাদি দ্য মেম্বার্স অব দ্য পার্লামেন্ট (রেমুনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এই আইনের আওতায় তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করেন। জনগণের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হলেও আইনি সুবিধা নিয়ে তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করেন, যা একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অন্যদিকে কর প্রদানে জনগণের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করে।

এ প্রেক্ষাপটে সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনমতের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই অনুচ্ছেদ বিলুপ্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়। এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই জনপ্রতিনিধিদের জন্য কোনো অতিরিক্ত সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতাসংক্রান্ত ১৯৭৩ সালের আদেশ অনুযায়ী এই সুবিধা বাতিলের জন্য আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দিলেও সংসদ সদস্যদের আপত্তির কারণে তা পাস হয়নি।

১৯৮৭ সালে এরশাদ সরকারের সময় চালু হওয়া এই সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের গাড়িতে করছাড় দেওয়ায় সমালোচিত হয়ে আসছে।

×