বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল এক পর্যায়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার অতিক্রম করে। এই দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের খবর প্রকাশের পরই বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল এক পর্যায়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার অতিক্রম করে। পরে তা কমে প্রায় ১১৪ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই সর্বোচ্চ মূল্য।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম দ্রুত বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড ইরানের বিরুদ্ধে “স্বল্প সময়ের কিন্তু শক্তিশালী” হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। একই সঙ্গে জলপথ আংশিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার (ফার্টিলাইজার) উৎপাদনের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষিখাতেও চাপ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারেও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন, ইউরোপের বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, বিমান ভাড়া বৃদ্ধি ও ফ্লাইট কমানোর প্রবণতা।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ১২৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে। সূত্র: বিবিসি

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
















