শিরোনাম:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শুধু ঝড়ই নয়, আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ৯৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোকে। সেখানে ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এজন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ার প্রবণতা এখনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে এই ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

এদিকে আজ সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে কাজে বের হওয়া মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেই সঙ্গে কিছু কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে। ফলে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে দিনের শুরু হয়েছে ঢাকাবাসীর।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর-১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি ও কালশীসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছে। পাশাপাশি সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যাও অনেকটা কম।

সমালোচকদের এক হাতে নিলেন রোনালদো

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

সৌদি প্রো লিগ নিয়ে একের পর এক সমালোচনা এবং নেতিবাচক কথাবার্তা নিয়ে জমানো ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো। রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রমাগত অভিযোগ এই লিগের বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মনে করছেন আল নাসর ফরোয়ার্ড। মৌসুম শেষে এই বিষয়ে নাকি বিস্তারিত মুখ খুলবেন ‘সিআর সেভেন’।

চলতি মাসের শুরুর দিকে আল-নাসরের কাছে হারের পর আল-আহলির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অভিযোগ করেছিলেন, রোনালদোর দল রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আল-আহলি ডিফেন্ডার মেরিহ ডেমিরালের অভিযোগের পরই ফুঁসে ওঠেন রোনালদো। তুর্কি এই ফুটবলার দাবি করেছিলেন, পুরো মৌসুম জুড়েই আল-নাসর রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়ে আসছে।

গতকাল সৌদি প্রো লিগে আল-আহলিকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে যাওয়ার পর সমালোচকদের তোপ দাগান রোনালদো। সৌদির লিগে ৩০ ম্যাচ শেষে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আল হিলাল। আর ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আল আহলি।

আল আহলির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে গোল পাওয়া রোনালদো ম্যাচ শেষে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা লিগের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এখানে সবাই শুধু অভিযোগ করে। ভাই, এটা ফুটবল, যুদ্ধ নয়। আমরা জানি আমাদের লড়াই করতে হবে, সবাই জিততে চায়—কিন্তু তার মানে এই নয় যে জেতার জন্য সবকিছুই জায়েজ।’

সৌদির এই লিগে আরও বাজে ব্যাপারও নাকি ঘটছে। তবে সব বিষয়ে নিয়ে মৌসুম শেষেই মুখ খুলবেন পর্তুগিজ মহাতারকা, ‘আমি মৌসুমের একদম শেষ দিকে কথা বলব, কারণ আমি এখানে অনেক অনেক খারাপ জিনিস ঘটতে দেখেছি।’

রোনালদো আরও যোগ করেন, ‘অনেক খেলোয়াড়ই ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করছে; তারা রেফারি নিয়ে কথা বলছে, লিগ নিয়ে কথা বলছে, এমনকি (লিগের) প্রজেক্ট নিয়েও কথা বলছে। এটা মোটেও ভালো হচ্ছে না। লিগের লক্ষ্য তো এটা ছিল না।’

মাঠের বাইরের বিতর্ক বন্ধ করে সৌদি লিগকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমাদের এমন একটা উদাহরণ তৈরি করা উচিত যাতে শুধু এখানকার মানুষ নয়, ইউরোপের মানুষও দেখে যে আমরা বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি হওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছি। কিন্তু যেভাবে সমালোচনা চলছে, আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা দরকার এবং দ্রুত এসব বন্ধ করা উচিত… কারণ আমার কাছে, এটা ফুটবল নয়।’

৪১ বছর বয়সী রোনালদো জানিয়েছেন, এ বছরের শুরুর দিকে তিনি কেন সৌদি প্রো লিগের দুটো ম্যাচ বর্জন করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা তিনি দেবেন। গুঞ্জন আছে শীতকালীন দলবদলের সময় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমা যখন আল-ইত্তিহাদ ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালে যোগ দেন এবং তাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দেন, তখন প্রতিবাদ স্বরূপ রোনালদো ওই ম্যাচগুলো খেলেননি।

রোনালদো বলেন, ‘এই মৌসুমটা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও খুব কঠিন ছিল। আমরা জানি অন্য দলগুলোর ক্ষমতা কতটুকু, তবে আমি মৌসুম শেষেই সব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পাব।’

সব হতাশা আর প্রতিবন্ধকতা একপাশে রেখে রোনালদো এখন আল-নাসরকে ২০১৯ সালের পর তাদের প্রথম শিরোপা জেতাতে উন্মুখ হয়ে আছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটিই হতে পারে তাঁর প্রথম শিরোপা। পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, ‘শিরোপার জন্য এই লড়াই একদম শেষ পর্যন্ত চলবে। আজকের (গতকাল) ম্যাচটা খুব কঠিন ছিল। আমরা জানতাম যে লিগের অন্যতম সেরা একটা দলের বিপক্ষে আমরা খেলতে নামছি।’

চলতি মৌসুমে আল-নাসরের শিরোপা জয়ের মিশনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। লিগে ২৬ ম্যাচে ২৫ গোলের সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সবশেষ আল আহলির বিপক্ষে জালের দেখা পাওয়া রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা এখন ৯৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে।

ক্রীড়া ইতিহাসে আয়ের রেকর্ড ভাঙছে ফিফা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেলেছে। তবে তা গোল বা ড্রিবলিংয়ের জন্য নয়, বরং অর্থের ঝনঝনানির জন্য। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, এটি হতে যাচ্ছে ‘মানবজাতির দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ইভেন্ট’। আর পরিসংখ্যান বলছে, এটি হবে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিযোগিতা। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

ফিফার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চার বছরের এই চক্রে সংস্থাটির আয় হচ্ছে রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারই আসবে শুধু চলতি বছরে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিককেও আয়ের দৌড়ে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে ফুটবল। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক যেখানে ৫.২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, ফিফার আয় তার দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) বিশাল বাজারকে লক্ষ্য করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় ভাগ্য খুলে গেছে ফিফার। আর্থিক দিক থেকে বিশ্বকাপ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত অলিম্পিকের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। সেই টুর্নামেন্টে ৪.১৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হয়েছিল ফিফার, যেখানে ২০১২ সালের লন্ডন গেমস থেকে বর্তমান বিনিময় হারে আয় হয়েছিল ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার।

আয়ের প্রধান তিন স্তম্ভ
১. সম্প্রচার স্বত্ব : ৩২ দলের পরিবর্তে এবার খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৪টি। ফলে টিভি স্বত্ব বিক্রি করে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে।

২. টিকিটের অস্বাভাবিক দাম: উত্তর আমেরিকার দর্শকদের কথা মাথায় রেখে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েক গুণ। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০,৯৯০ ডলার, যা কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের চেয়ে সাত গুণ বেশি।

৩. স্পনসরশিপ: কোকা-কোলা, আরামকো ও অ্যাডিডাসের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো থেকে ফিফা প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

প্রাইজমানি ও উন্নয়ন অনুদান
অঢেল আয়ের বিপরীতে ফিফা প্রাইজমানির পরিমাণও বাড়িয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে এবার মোট প্রাইজমানি করা হয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রতিটি দল অন্তত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে। এছাড়া ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নেও বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পর্দার আড়ালে অসন্তোষ
এত আয়ের মাঝেও বিতর্কের সুর বেজেছে আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে। চুক্তিতে বলা হয়েছে— টিকিট, স্পনসরশিপ ও পার্কিংয়ের সব লাভ যাবে ফিফার পকেটে। অন্যদিকে নিরাপত্তা, পরিবহন ও পর্যটনের বিশাল খরচ বহন করতে হবে আয়োজক শহরগুলোকে। বাড়তি খরচের চাপে নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো তাদের পূর্বনির্ধারিত ‘ফ্যান ফেস্টিভ্যাল’ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

পাশাপাশি, কর জটিলতা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ফিফা করমুক্ত সুবিধা পেলেও খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন ফেডারেল ট্যাক্সের বোঝা চাপার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল মাঠের ফুটবল নয়, বরং একটি বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, যার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ফিফা কংগ্রেসে না থাকলেও বিশ্বকাপ খেলবে ইরান

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

কানাডায় ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। এই অনুষ্ঠানে না থাকলেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলতি বছরের জুনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই মহাযজ্ঞে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সংশয় আরও বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে হওয়া কংগ্রেসে ইনফান্তিনো পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে। কারণ ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আমাদের লক্ষ্যই হলো বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথা।‘

ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যদের ওপর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কানাডা আইআরজিসি-কে কয়েক বছর আগেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণেই হয়তো এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। ফিফা সভাপতি শুরু থেকেই বলে আসছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান তাদের খেলাগুলো খেলবে।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

×