শিরোনাম:

পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল

পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, একক নৈপুণ্য; সবই ছিল ম্যাচে। তবে গোলপোস্ট ছিল যেন এক তালাবদ্ধ কপাট। দুই পেনাল্টি থেকে গোল ছাড়া একাধিক চেষ্টাতেও খোলেনি। তাতেই ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ফার্স্ট লেগ। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল।

বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনানালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

ম্যাচ ঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যভেদ করতে। অবশ্য তা হেলায় নষ্ট হয়।

১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানেন তারা।

পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।

৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।

৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল নেশায় হন্যি হয়ে ছুটতে থাকে আতলেতিকো। ৫৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে লরেন্তের নেওয়া ভলি বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে জোরালো দাবি তোলে স্বাগতিকরা। মুহূর্তেই মেত্রোপলিতানোর গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে। পেনাল্টির জোরালো আপিল নাকচ করলেও মাঠের রেফারি বর্তমানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত রায় আতলেতিকোর পক্ষেই যায়।

আতলেতিকোর হয়ে পেনাল্টি শট নেন আরভারেজ। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে রায়ার ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার দশম গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও বড় কথা—ম্যাচে সমতায় ফিরল ‘লস রোহিব্লাঙ্কোস’রা।

৬৩তম মিনিটে লিড নিতে পারতো আতলেতিকো। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে গোলবঞ্চিত হন গ্রিজমান। লুকম্যানের স্কয়ার পাস থেকে বল পেয়েই চতুরতার সাথে চিপ করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রায়া পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে গ্রিজমানের ভলি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।

৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি হজম করা সেই হাঙ্কোই আবারও খলনায়ক হিসেবে ধরা দেয়।বুকোয়া সাকার ক্রস রিসিভের আগেই এজেকে ফেলে দেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ফার্স্ট লেগ।

ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল আতলেতিকো দখলে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল। ১৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে তারা সিমিওনের শিষ্যরা। ১১টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখে গানাররা।

গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিলো ইসরায়েল

পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল

গাজা উপত্যকার দিকে এগিয়ে চলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে মাঝ সমুদ্রে আটকে দিতে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) গভীর রাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বহরের আয়োজকরা। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরে ৫৮টি জাহাজ রয়েছে। ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বহরটি ক্রিট দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল, যা গাজা থেকে শত শত নটিক্যাল মাইল দূরে। এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী তাদের মুখোমুখি হয়ে পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।

ফ্লোটিলা আয়োজকদের প্রকাশিত এক ভিডিওতে শোনা যায়, এক ইসরায়েলি নৌ কর্মকর্তা জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেন-‘আপনারা যদি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে চান, তবে স্বীকৃত পথ ব্যবহার করুন। দয়া করে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যান অথবা পোর্ট অব আসদদ বন্দরে আসুন।’ এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটক করা একটি জাহাজে ‘কনডম ও মাদক’ পাওয়া গেছে, যা বহরটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই বহরটি স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করে এবং গাজায় প্রতীকী পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল বরাবরই এমন উদ্যোগকে ‘প্রচারমূলক কৌশল’ বলে সমালোচনা করে আসছে।

অন্যদিকে মন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ বহরের অর্থায়ন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ক্রাউডফান্ডিং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ২০০৭ সালে গাজায় ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও মিসর ওই অঞ্চলে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইসরায়েল বলছে, অস্ত্র পাচার ঠেকাতে এই অবরোধ জরুরি, যদিও সমালোচকদের মতে এটি গাজার সাধারণ মানুষের ওপর ‘সমষ্টিগত শাস্তি।

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সঙ্গে উত্তেজনার জেরে দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন ‘জার্মানিতে সম্ভাব্য সেনা হ্রাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ও পর্যালোচনা করছে’। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আগামী অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি নেতৃত্বের হাতে অপমানিত’ হচ্ছে। মের্ৎসর এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্প কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেন। এছাড়া ট্রাম্প শুরু থেকেই জার্মানি ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তারা পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। বিশেষ করে হরমজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে মিত্র দেশগুলো তাদের নৌবাহিনী মোতায়েন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের।

বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশের মাটিতে থাকা অন্যতম বৃহত্তম ঘাঁটিগুলোর একটি। এর আগেও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছিলেন।

ইরানকে অবরোধের বাড়ানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল

ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও কয়েক মাস দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই অবরোধের ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব এবং মার্কিন গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে তেল কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সচল করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে নতুন করে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তেল খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ট্রাম্পের এই আলোচনা এমন এক সময়ে এলো, যখন সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে দেশটিকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য করতে। ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে ক্রমাগত হুমকি দিলেও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে। পাকিস্তানের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, উভয় পক্ষই একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান করছে।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা জানে না কীভাবে একটি অ-পারমাণবিক চুক্তি সই করতে হয়। তাদের দ্রুত বুদ্ধিমান হতে হবে!’ এই পোস্টের সঙ্গে তিনি নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি যুদ্ধংদেহী ছবিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, ট্রাম্প চশমা পরা অবস্থায় হাতে একটি মেশিনগান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং নিচে লেখা—‘আর কোনো ভদ্রতা নয়’।

দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের আশঙ্কায় গতকাল (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার। সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হুশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা ‘নজিরবিহীন সামরিক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেয়া হবে না। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে এবং মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প অবরোধের মাধ্যমে ইরানিদের বিভক্ত করতে এবং তাদের আত্মসমর্পণ করাতে চাইছেন। তবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করলেও তারা সংঘাত বন্ধের পরই কেবল সহায়তা করার কথা জানিয়েছে। ট্রাম্পের ওপরও দেশের ভেতরে চাপ বাড়ছে, কারণ মার্কিন নাগরিকেরা জ্বালানি তেলের লাগামহীন দামে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

×