শিরোনাম:

এক গোলে দুই রেকর্ড কেইনের

এক গোলে দুই রেকর্ড কেইনের

পার্ক দে প্রাঁসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি।

এদিন ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উইলিয়ান পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাভারিয়ানদের লিড এনে দেন কেইন।

পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট জাল কাঁপায়। গোলরক্ষক সাফোনভের কিছু করার ছিল না।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন আজ ৫৪ নম্বর গোলটি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন রবার্ট লেভানডভস্কির সমান্তরালে তিনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন হ্যারি কেইন।

ক্রীড়া ইতিহাসে আয়ের রেকর্ড ভাঙছে ফিফা

এক গোলে দুই রেকর্ড কেইনের

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে ফেলেছে। তবে তা গোল বা ড্রিবলিংয়ের জন্য নয়, বরং অর্থের ঝনঝনানির জন্য। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, এটি হতে যাচ্ছে ‘মানবজাতির দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ইভেন্ট’। আর পরিসংখ্যান বলছে, এটি হবে ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিযোগিতা। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

ফিফার সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চার বছরের এই চক্রে সংস্থাটির আয় হচ্ছে রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারই আসবে শুধু চলতি বছরে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিককেও আয়ের দৌড়ে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে ফুটবল। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক যেখানে ৫.২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, ফিফার আয় তার দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) বিশাল বাজারকে লক্ষ্য করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় ভাগ্য খুলে গেছে ফিফার। আর্থিক দিক থেকে বিশ্বকাপ ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের আগ পর্যন্ত অলিম্পিকের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। সেই টুর্নামেন্টে ৪.১৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হয়েছিল ফিফার, যেখানে ২০১২ সালের লন্ডন গেমস থেকে বর্তমান বিনিময় হারে আয় হয়েছিল ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার।

আয়ের প্রধান তিন স্তম্ভ
১. সম্প্রচার স্বত্ব : ৩২ দলের পরিবর্তে এবার খেলবে ৪৮টি দল। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৪টি। ফলে টিভি স্বত্ব বিক্রি করে আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে।

২. টিকিটের অস্বাভাবিক দাম: উত্তর আমেরিকার দর্শকদের কথা মাথায় রেখে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েক গুণ। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০,৯৯০ ডলার, যা কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের চেয়ে সাত গুণ বেশি।

৩. স্পনসরশিপ: কোকা-কোলা, আরামকো ও অ্যাডিডাসের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো থেকে ফিফা প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

প্রাইজমানি ও উন্নয়ন অনুদান
অঢেল আয়ের বিপরীতে ফিফা প্রাইজমানির পরিমাণও বাড়িয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে এবার মোট প্রাইজমানি করা হয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রতিটি দল অন্তত ১২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে। এছাড়া ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নেও বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পর্দার আড়ালে অসন্তোষ
এত আয়ের মাঝেও বিতর্কের সুর বেজেছে আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে। চুক্তিতে বলা হয়েছে— টিকিট, স্পনসরশিপ ও পার্কিংয়ের সব লাভ যাবে ফিফার পকেটে। অন্যদিকে নিরাপত্তা, পরিবহন ও পর্যটনের বিশাল খরচ বহন করতে হবে আয়োজক শহরগুলোকে। বাড়তি খরচের চাপে নিউইয়র্কের মতো শহরগুলো তাদের পূর্বনির্ধারিত ‘ফ্যান ফেস্টিভ্যাল’ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

পাশাপাশি, কর জটিলতা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ফিফা করমুক্ত সুবিধা পেলেও খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন ফেডারেল ট্যাক্সের বোঝা চাপার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল মাঠের ফুটবল নয়, বরং একটি বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, যার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ফিফা কংগ্রেসে না থাকলেও বিশ্বকাপ খেলবে ইরান

এক গোলে দুই রেকর্ড কেইনের

কানাডায় ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। এই অনুষ্ঠানে না থাকলেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলতি বছরের জুনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই মহাযজ্ঞে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সংশয় আরও বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে হওয়া কংগ্রেসে ইনফান্তিনো পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে। কারণ ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আমাদের লক্ষ্যই হলো বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথা।‘

ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যদের ওপর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কানাডা আইআরজিসি-কে কয়েক বছর আগেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণেই হয়তো এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। ফিফা সভাপতি শুরু থেকেই বলে আসছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান তাদের খেলাগুলো খেলবে।

আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

বিশ্বকাপে খেলবেন ওচোয়া, নামলেই বিশ্বরেকর্ড

এক গোলে দুই রেকর্ড কেইনের

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দিয়েছেন গুইলার্মো ওচোয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাবেন এই কিংবদন্তি গোলকিপার। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের পাশাপাশি সব ধরনের ফুটবল থেকেও বিদায় নিতে পারেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে ডাক পেলে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করবেন ওচোয়া। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ দলে থেকে তিনি নাম লেখাবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাদের পাশে।

মেক্সিকোর হয়ে এর আগে আন্তোনিও কারভাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে নামলে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়বেন ওচোয়া।

বর্তমানে সাইপ্রাসের ক্লাব এএল লিমানসোল এফসিতে খেলেন ওচোয়া। মেক্সিকান টেলিভিশন চ্যানেল টিইউডিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ বিশ্বকাপের পর অবসরে যাব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময়ই কঠিন। তবে আমি দীর্ঘ সময় ফুটবল উপভোগ করেছি বলে আমার জন্য এটি খুব বেশি কষ্টের হবে না। একটা সময় শরীর ও মন বলে দেয় আপনি নিজের সেরাটা দিয়ে ফেলেছেন। আমি খুব শান্ত মনেই বিদায় নিতে চাই।‘

মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে সম্প্রতি যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে মেক্সিকান লিগের দুই গোলকিপারকে রাখা হয়েছে। তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে ওচোয়ার জন্য জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত তিন বিশ্বকাপে গোলবারের নিচে মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের থাকলেও এবার রাউল রাঙ্গেলের ব্যাকআপ হিসেবে দেখা যেতে পারে ওচোয়াকে। সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেক্সিকোর জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন এই গোলকিপার।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। ঘরের মাঠের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন ওচোয়া।

×