শিরোনাম:

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সঙ্গে উত্তেজনার জেরে দেশটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন ‘জার্মানিতে সম্ভাব্য সেনা হ্রাসের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ও পর্যালোচনা করছে’। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আগামী অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানি নেতৃত্বের হাতে অপমানিত’ হচ্ছে। মের্ৎসর এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্প কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেন। এছাড়া ট্রাম্প শুরু থেকেই জার্মানি ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে তারা পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না। বিশেষ করে হরমজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে মিত্র দেশগুলো তাদের নৌবাহিনী মোতায়েন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের।

বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশের মাটিতে থাকা অন্যতম বৃহত্তম ঘাঁটিগুলোর একটি। এর আগেও ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছিলেন।

সিলেটে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এর আগে সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে।

ভৌগোলিক কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো নগরীতে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের বন্যার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় আধুনিক স্লুইসগেট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প স্থাপন করা হবে। এতে নদীর পানি নগরীতে প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া শাহপরাণ সেতু থেকে বাদাঘাট সেতু পর্যন্ত সুরমা নদীর দুই তীরের প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা উঁচু করা হবে। যেখানে পাড় উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প উদ্বোধনের আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন এবং বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সিলেট নগরীর এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো আমরা মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি তুলছি। কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাল খনন।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন রাস্তা নির্মাণ করলে ফসলের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে পর্যায়ক্রমে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর।

সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সড়কপথে শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সফরের শুরুতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

পরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, চুক্তি নিয়ে সংশয়

জার্মানি থেকে সেনা কমানোর হুমকি ট্রাম্পের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবটি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ইরান আদৌ কোনো কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না—তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১ মে) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি তাদের প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নই।”

ইরানের প্রস্তাবের কোন অংশগুলো তার পছন্দ হয়নি, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী করেন। তার দাবি, ইরানের নেতাদের মধ্যে প্রচণ্ড মতভেদ রয়েছে, যা কোনো টেকসই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা।

ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে খুবই অসংগঠিত। সেখানে অন্তত তিন থেকে চারটি উপদল থাকতে পারে। তাদের এই বিক্ষিপ্ত নেতৃত্বের সবাই হয়তো চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা সবাই মিলে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে রেখেছে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক মহল থেকে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী মীমাংসায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, “তারা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ঠিকই, তবে শেষ পর্যন্ত তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় মনোভাব যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

×