শিরোনাম:

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) সিলেট নগরীর এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো আমরা মাটির নিচ থেকে অতিরিক্ত পানি তুলছি। কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাল খনন।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন রাস্তা নির্মাণ করলে ফসলের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে পর্যায়ক্রমে ১ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর।

সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সড়কপথে শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সফরের শুরুতে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

পরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৩৫ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ২১৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩২৫ জন।

এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ৯১১ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৩ হাজার ২২৫ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।

হঠাৎ রমনা থানায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দিলেন হুঁশিয়ারি

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানায় পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে গেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তিনি থানাগুলোকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর রমনা মডেল থানা পরিদর্শনের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের তিনি এ নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি থানায় ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। সে সময় কক্ষে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রবেশ করেই তিনি উপস্থিতদের পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চান।

এ সময় তিনি থানার বিভিন্ন কক্ষ ও হাজতখানাসহ সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার ওসি, ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

প্রায় ১০ থেকে ১১ মিনিট থানায় অবস্থান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি বা কোনো পার্টির নাম ব্যবহার করে কেউ থানায় সুবিধা নিলে তার দায় আপনার।’

রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাহাত খান বলেন, কোনো সমস্যা আছে কিনা, এসব সমস্যার সমাধানে করণীয় কী, থানায় আগত বিচার প্রার্থী, আটক আসামিদের আরো কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি আমাদের বেশকিছু করণীয় বলে দিয়েছেন।

এ সময় রমনা জোনের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ৮০ শতাংশই নারী

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন এবং তারা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করবেন।

শনিবার (২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট নগর ভবনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরকেন্দ্রিক কিছু স্বাস্থ্যসেবা থাকলেও তা এখনো গ্রামাঞ্চলে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই যদি স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা যায়, তাহলে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রেও তারা বেশি উপকৃত হবে।’

তিনি জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রাম ও শহরে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন। খাদ্যাভ্যাস, হৃদরোগ ও কিডনি রোগ প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা পরামর্শ দেবেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য মানুষকে সুস্থ রাখা, আর সে জন্য সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।’

এসব স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না বা লাইফস্টাইল কী হলে তার হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা হবে না— এ বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদেরকে সচেতন করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে মানুষকে যেভাবে সুস্থ রাখা যায় সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

তারেক রহমান বলেন, অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমলে চিকিৎসাসেবা দেওয়াও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশে বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা দ্রুত চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। সেগুলো দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে আগ্রহীদের সম্পৃক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সারাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোকে আরও কার্যকর করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

×